যুদ্ধ থামাতে ইরানের ৭ শর্ত! বল কি এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোর্টে?
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 202610:48 am
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপের মাঝেই আমেরিকার সঙ্গে আবার কূটনৈতিক টেবিলে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করল ইরান। তবে আলোচনার দরজা খোলার আগে ওয়াশিংটনের সামনে ৭টি বিশেষ শর্ত তুলে ধরেছে তেহরান। এখন পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপে।
শর্ত মেনে আলোচনা, নচেৎ যুদ্ধ!
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তা মোহসেন রেজেই সামাজিক মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সংঘাত থামিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে আসতে চায়, তবে ইরানকে দেওয়া শর্ত মেনে এগোতে হবে।
সাতটি শর্তের পুরো তালিকা প্রকাশ্যে আনা না হলেও রেজেই জানান, মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে:
- সব দিক থেকে সামরিক আক্রমণ ও সংঘাত বন্ধ করা।
- মার্কিন সরকারের আটকে রাখা ইরানের সমস্ত অর্থ অবিলম্বে ফেরত দেওয়া।
- মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া।
কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে এই শর্ত বার্তা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়েছে। রেজেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমেরিকার চাপ বা হুমকির কাছে তেহরান নতি স্বীকার করবে না। আমরা আলোচনার পাশাপাশি সামরিক জবাব দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত।”
জাতিসংঘের উদ্বেগ ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
এদিকে সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপও ঘনীভূত হচ্ছে। জাতিসংঘের ইরান বিষয়ক তথ্য অনুসন্ধান মিশন জানিয়েছে, মিনাবের একটি প্রাথমিক স্কুল এবং লামার্দের ক্রীড়া কেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলায় যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্তের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। মিনাবের স্কুলে হামলায় অন্তত ১৫০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ১২০ জনেরও বেশি শিশু ছিল।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের একই রিপোর্টে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে বেআইনি হত্যা, নির্যাতন ও ইচ্ছেমতো গ্রেফতারির মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলিও উঠে এসেছে।
তবে ওয়াশিংটন জাতিসংঘের এই অভিযোগ একবাক্যে খারিজ করে উল্টে ইরানকেই যুদ্ধাপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এখন তেহরানের ৭ দফা বার্তা পাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।