টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ গেল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর!
বার্তা ডেস্কঃ
September 20, 20266:42 pm
চুঁচুড়া: বকেয়া বেতনের কারণে চরম আর্থিক অনটন, আর তার মাঝেই বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারালেন হুগলি-চুঁচুড়া পুরসভার এক অস্থায়ী কর্মী। মৃতের নাম হীরা সাধুখাঁ (৪৩)। তিনি পুরসভার ‘নির্মলসাথী’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার সকালে চুঁচুড়ার তোলাফটক এলাকার বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। সহকর্মীদের দাবি, গত ৪-৫ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তীব্র অর্থকষ্টে ভুগছিলেন হীরা। কয়েক দিন ধরে টানা জ্বরে ভুগলেও টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি তিনি।
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য হীরার অকালপ্রয়াণে পরিবারে নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হীরার স্বামী লক্ষ্মণ সাধুখাঁ তেমন কাজকর্ম করেন না। তাঁদের দুই ছেলে পড়াশোনা করছে। মূলত হীরার আয়েই সংসার চলত। মাত্র দশ দিন আগে মারা যান তাঁর শাশুড়ি আরতি সাধুখাঁ। শাশুড়ির শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রাণ গেল হীরার।
ক্ষুব্ধ সহকর্মীদের গুরুতর অভিযোগ হীরার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান পুরসভার অন্যান্য অস্থায়ী কর্মচারীরা। কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর সহকর্মীরা। ‘নির্মলসাথী’ শুক্লা বলেন, “হীরা বারবার বলছিল, পাঁচ মাসের বেতন বাকি। দু’মাসের টাকা পুরসভায় এসেছে শুনেও কেন দেওয়া হচ্ছিল না? শাশুড়ির কাজের খরচ, সংসার চালানো—সব নিয়ে ভীষণ চাপে ছিল ও।”
অস্থায়ী কর্মচারীদের প্রতিনিধি স্নেহাশিস চক্রবর্তীর অভিযোগ, “স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বা সুডা (SUDA)-র অধীনে চুঁচুড়া পুরসভায় ৭৪ জন নির্মলসাথী কাজ করেন। ৫ মাস ধরে কেউ বেতন পাচ্ছেন না, অথচ কাজের চাপ বেড়েই চলেছে। আমরা জেনেছিলাম দু’মাসের টাকা সুডা থেকে চলে এসেছে। পুর কর্তৃপক্ষ কেন সেই টাকা আটকে রাখল? সময়ে বেতন পেলে হয়তো সঠিক চিকিৎসা করিয়ে হীরাকে বাঁচানো যেত।”
রাজনীতি না করার বার্তা, প্রশ্নের মুখে পুরপ্রশাসন ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়কের নিযুক্ত কো-অর্ডিনেটর অর্ণব রায়চৌধুরী বলেন, “মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, তবে এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। সুডা থেকে দু’মাসের বকেয়া টাকা এসে গিয়েছে। পুরসভা কেন সেই টাকা কর্মীদের অ্যাকাউন্টে পাঠাল না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নীচের তলার আধিকারিকেরা কি ইচ্ছাকৃতভাবে বেতন আটকে রেখে জটিলতা তৈরি করছেন?”
একদিকে বকেয়া বেতনের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে সহকর্মীকে হারানোর ক্ষোভ—সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা।