জোড়াফুল কাড়তেই আইনি লড়াই, মমতা কি এবার সুপ্রিম কোর্টে!
বার্তা ডেস্কঃ
September 21, 202612:28 pm
কলকাতা: দলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কি শেষ পর্যন্ত ফিরে পাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের দরজায় কড়া নাড়লেন তিনি। মমতার পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল শীর্ষ আদালতে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। আবেদনের গুরুত্ব বুঝে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ আশ্বাস দিয়েছে, বিষয়টি দ্রুত শোনার চেষ্টা করা হবে এবং সব পক্ষকেই এ বিষয়ে অবগত করা হবে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কমিশনের সিদ্ধান্ত: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফলের পর থেকেই চরম অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরের মধ্যে দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন চরম আকার নেয়। ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিদ্রোহী হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই পক্ষই আসল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের দাবি জানালে কমিশন আপাতত নাম ও প্রতীক দুটোই ফ্রিজ (স্থগিত) করে দেয়।
উপনির্বাচনের অন্তর্বর্তী নাম ও চিহ্ন: আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল প্লেয়ার’। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের নাম হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’ (Envelope)।
‘মাথা নোয়াব না’— সুর চড়ালেন মমতা: কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিন’ বলে তোপ দেগেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিবসেনা বা এনসিপি-র মতোই বিজেপি তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। একই সাথে তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “মাথা নোয়াব না।”
নজর এখন শীর্ষ আদালতে: কমিশনের নির্দেশ মেনে নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মমতা। আদালতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষকেও যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের মুখে এই আইনি লড়াই কোন দিকে গড়ায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর মূল দলের নাম ও প্রতীক ফেরত পান কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজ্য রাজনীতির।