জোড়াফুল ফ্রিজ! সুপ্রিম কোর্টে মমতার বড় লড়াই, কী বললেন প্রধান বিচারপতি?
বার্তা ডেস্কঃ
September 21, 20263:18 pm
কলকাতা: দলের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক হাতছাড়া হতেই আইনি লড়াইয়ে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দরবারে আপিল করেছেন তিনি। সোমবার তাঁর হয়ে সর্বোচ্চ আদালতে দ্রুত শুনানির আর্জি জানান বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বল। এই আর্জির ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ বিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কীভাবে তৈরি হলো এই নজিরবিহীন সংকট? ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জন বিধায়ক দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুই শিবিরই আসল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘জোড়াফুল’ চিহ্নের দাবি জানালে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছায়। কমিশন আপাতত বিতর্ক এড়াতে মূল নাম ও প্রতীক সাময়িকভাবে ‘ফ্রিজ’ করার নির্দেশ দিয়েছে।
উপনির্বাচনে নতুন নাম ও প্রতীক আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। তার আগেই দুই পক্ষকে সাময়িক নাম ও চিহ্ন বরাদ্দ করেছে নির্বাচন কমিশন:
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী: ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: ফুটবল প্লেয়ার)
- ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠী: ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ (প্রতীক: খাম)
“মাথা নোয়াব না”, সুর চড়ালেন মমতা কমিশনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এটিকে “গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক কালো দিন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শিবসেনা বা এনসিপি-র ধাঁচেই চক্রান্ত করে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টা করছে বিজেপি। একই সঙ্গে তিনি বার্তা দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই তিনি মাথা নোয়াবেন না।
নজর এখন সুপ্রিম কোর্টে কমিশনের নির্দেশের পরেই শীর্ষ আদালতে ধাওয়া করেছে মমতা শিবির। এই মামলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপনির্বাচনের চরম উত্তেজনার মাঝে এবার সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং মমতা তাঁর জোড়াফুল ফের পান কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।