UNSC-তে ভারতের জয়জয়কার, স্থায়ী সদস্যপদ পেতে এবার পাশে ৪ ইউরোপীয় রাষ্ট্র!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 202611:10 am
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) স্থায়ী সদস্যপদ পাওয়ার লড়াইয়ে বড়সড় কূটনৈতিক সাফল্য পেল ভারত। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ— হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র (V4 গোষ্ঠী) ভারতের এই দাবিকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে।
নিউ ইয়র্কে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার স্পষ্ট জানান, গ্লোবাল সাউথের মূল কণ্ঠস্বর এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে ভারতের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী আসনে থাকা উচিত।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি? ১৯৪৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদ তৈরির পর থেকে বিশ্বরাজনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ভারত ইতিমধ্যে আটবার অস্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করেছে। বিপুল জনসংখ্যা, দ্রুগতিশীল অর্থনীতি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানে দীর্ঘ অবদান এবং বৈশ্বিক কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে ভারত বহু দিন ধরেই এই স্থায়ী আসনের দাবিদার।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের সঙ্গীরা: ভারতের এই দাবিকে সমর্থন জানাচ্ছে একাধিক বিশ্বশক্তি। ফ্রান্স, ব্রিটেন, আমেরিকা এবং রাশিয়ার মতো দেশগুলি ইতিমধ্যেই ভারতের পক্ষে সুর মিলিয়েছে। এ ছাড়া ভারত ‘G4’ গোষ্ঠীর (ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান) অংশ হয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৫ বা ২৬ করার জন্য যৌথ লড়াই চালাচ্ছে।
কোথায় সমস্যা ও চিনের ভূমিকা? নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান পাঁচ স্থায়ী সদস্যের (P5) মধ্যে মতভেদের কারণে সংস্কার থমকে রয়েছে। বিশেষ করে চিন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের দাবিকে “সম্মান করার” কথা বললেও বাস্তবে সার্বিক ঐকমত্যের অজুহাত তুলে বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রাখছে।
ভেটো ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: সবচেয়ে বড় বিতর্ক নতুন স্থায়ী সদস্যদের ‘ভেটো ক্ষমতা’ দেওয়া নিয়ে। ভারতের অবস্থান একদম পরিষ্কার— পুরনো ও নতুন স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে অধিকার নিয়ে কোনো বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। হয় নতুন সদস্যদেরও ভেটো ক্ষমতা দিতে হবে, নয়তো চিরতরে এই ব্যবস্থা তুলে দিতে হবে।