জমুইয়ে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, মন্ত্রীর অসংবেদনশীল মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য!
বার্তা ডেস্কঃ
September 22, 202611:22 am
বিহারের জমুইয়ে দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্মম এই নির্যাতনের ভিডিও নেটপাড়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। গঠন করা হয়েছে সিট (SIT) এবং ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই বিহারের এক মন্ত্রীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের আগুন আরও উস্কে উঠেছে।
কী ঘটেছিল সেদিন? গত শনিবার টিউশন থেকে ফেরার পথে স্কুটিতে চেপে এক বন্ধুর সঙ্গে মাদওয়া পাহাড় এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির ওই ছাত্রী। অভিযোগ, সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময়েই তাঁদের ঘিরে ধরে একদল স্থানীয় যুবক। গালিগালাজের পাশাপাশি স্কুটি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় দু’জনকে। কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও অশালীনভাবে স্পর্শ করার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি করে অভিযুক্তরা। কিশোরীটি আতঙ্কে কাঁদতে কাঁদতে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও থামেনি নির্যাতন। পুরো ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশি অ্যাকশন ও সাইবার সেলের পদক্ষেপ:
- সিট গঠন ও গ্রেপ্তার: ভিডিও নজরকাড়তেই জমুই পুলিশ বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। চিহ্নিত ৭-৮ জনের মধ্যে ২ জন নাবালকসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- পকসো ধারা: অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনসহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
- ৩২টি অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড: ওই সংবেদনশীল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স (X) অ্যাকাউন্ট ব্লক করেছে।
‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা!’— মন্ত্রীর মন্তব্যে বিতর্ক রাজ্যজুড়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন বিহারের গ্রামোন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী শ্রবণ কুমারের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেই থাকে। দেশ থেকে তো আর অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল হয়ে যায়নি।” মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধীরা বিহারে ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে।
রাজনৈতিক সরগরম: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “মরাল পুলিশিংয়ের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না।” একইসঙ্গে বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিহারের সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী জামা খান স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনার খোঁজ নিয়েছেন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।