সিইসি-র বেআইনি পদক্ষেপে তোলপাড়, ক্ষোভ উগরালেন সান্ধু ও যোশী!

বার্তা ডেস্কঃ ‘অননুমোদিত ও বেআইনি পদক্ষেপ!’ সিইসি-র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন সান্ধু ও যোশী

নয়া দিল্লি: দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই দেশের সর্বোচ্চ নির্বাচনী সংস্থা—নির্বাচন কমিশনের (ECI) অন্দরে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব সংঘাত। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন একক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিতভাবে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী। এমনকি একই দিনে ৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করার নজিরও সামনে এসেছে।

তাদের মূল অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন তাদের অন্ধকারে রেখেই নিয়েছেন।

প্রধান আপত্তি ও বিতর্কের মূল জায়গাগুলি:

  • নতুন ভোটারদের ‘ফর্ম-৬’ বিতর্ক: চলতি বছরের জুলাই মাসে ফর্ম-৬ এ আবেদনকারীর পরিবার বা পূর্বপুরুষদের আগের SIR-এ নাম ছিল কিনা, তা জানান বাধ্যতামূলক করা হয়। নিয়ম না মেনে আনা এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করে অগাস্ট মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এটিকে সরাসরি ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ বলে অভিহিত করেন এবং প্রশ্নটি তুলে নেওয়ার দাবি জানান।
  • ভোটার তথ্যের কেন্দ্রীকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিতর্ক: এতদিন প্রতিটি কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন ভূমিকা পালন করতেন স্থানীয় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO)। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ECINet ও ERONet পোর্টালের মাধ্যমে ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ করা হচ্ছে এবং রাজ্য স্তরের আধিকারিকদের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। এমনকি এ বিষয়ে কমিশন ক্যাবিনেট সচিবকেও পৃথক চিঠি পাঠায়।
  • পশ্চিমবঙ্গ মামলা ও আদালতের আপিল ঘিরে সংশয়: পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর বাদ পড়া লাখ লাখ ভোটার নাম ফের অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান। কিন্তু বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা যাদের নাম যুক্ত করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের তরফেই উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করা হয়। কমিশনার সান্ধু আধিকারিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন—কার নির্দেশে বা কার সমর্থনে এই আপিলগুলি করা হয়েছিল, কারণ বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বা স্থানীয় CEO কেউই অবহিত ছিলেন না।
  • গোয়ায় সফটওয়্যারের ভুলে নাম কাটা ৯৭ জনের: গোয়ায় ERO-রা নথি যাচাই করে ৯৭ জন ভোটারকে বৈধ ঘোষণা করলেও ইসিআই-এর সফটওয়্যারে তা নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা ছিল না। বারংবার চিঠি পাঠানোর পরেও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ওই ৯৭ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ওঠেনি।

আইনি ও সাংবিধানিক নিয়ম কি লঙ্ঘন করা হচ্ছে?

সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের নতুন আইনের ১৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন একটি যৌথ সাংবিধানিক সংস্থা। কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে নেওয়া বাধ্যতামূলক। কমিশনারদের অভিযোগ, তাঁদের না জানিয়ে এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছাড়াই একাধিক বিজ্ঞপ্তি ও নির্দেশ জারি করা হচ্ছে, যা কমিশনের কার্যপদ্ধতির পরিপন্থী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ চার মাস পর গত ৯ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে প্রথম পূর্ণাঙ্গ বৈঠক হয়। তবে এসব বিতর্কের বিষয়ে কমিশনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য জানানো হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *