চুক্তি না হলে নিশ্চিহ্ন! রাষ্ট্রপুঞ্জে ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20267:42 am
তেহরানের ভাগ্য এখন সম্পূর্ণ ওয়াশিংটনের হাতে? রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভায় ভাষণ দিতে উঠে ইরান ইস্যুতে ফের বিস্ফোরক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের স্পষ্ট বার্তা— ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি বিকল্প খোলা রয়েছে। হয় আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে আসতে হবে, নয়তো সম্পূর্ণ ‘নিশ্চিহ্ন’ হওয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
দুই কড়া বিকল্পের মুখে ইরান জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে ট্রাম্প জানান, ইরান যাতে আর কখনও রক্তপাত বা ধ্বংসলীলা চালানোর সুযোগ না পায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি এই অবস্থান নিয়েছেন। এর আগে ইরানকে ‘নরকে ঠেলে দেওয়া’র হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। তবে কি কঠোর সামরিক অভিযানে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করা হবে, নাকি চুক্তির মাধ্যমে তাদের পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে— সেই সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।
সাত মাসের সংঘাত ও শর্তের রাজনীতি গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। তবে ফের আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে দু’পক্ষ থেকেই। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করে এবং সামরিক চাপ কমায়, তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের তরফেও ইতিবাচক আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের পর চুক্তি? আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই নির্বাচনের পরেই ইরানের সঙ্গে কোনো স্থায়ী সমঝোতা বা চুক্তি হতে পারে। ভাষণে নিজেকে ‘শান্তিদূত’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের প্রশংসাও শোনা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের মুখে। এখন দেখার, ট্রাম্পের এই চরম বার্তার পর তেহরান সমঝোতার পথ বেছে নেয়, নাকি নতুন সামরিক সঙ্ঘাতের দিকে হেঁটে যায় বিশ্ব রাজনীতি।