কলকাতায় ভয়াবহ রাজনৈতিক সংঘর্ষ! রক্তাক্ত প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন ও উপাসনা
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20267:38 am
কলকাতা: পার্টি অফিস উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকা। বিজেপি ও তৃণমূলের (কালীঘাটপন্থী) কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। এই রক্তক্ষয়ী হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন ডেবরার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীর। মারধরের জেরে তাঁর মুখ ফেটে রক্ত বের হতে দেখা যায়। এছাড়া তৃণমূলের যুব নেত্রী উপাসনা চৌধুরী এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মুকুন্দপুরের একটি দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত করার দাবিতে মিছিল বের করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। মিছিলে হুমায়ুন কবীর ও উপাসনা চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট নেতারা নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। অভিযোগ, মিছিল চলাকালীন আচমকাই মত্ত অবস্থায় কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাঁদের উপর চড়াও হয়।
মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাস্তার ওপরই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি ও মারপিট। মিছিল লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। উত্তেজনার মাঝে বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একটি সবুজ রঙের চারচাকা গাড়ির কাচ। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ উগরে দেন হুমায়ুন কবীর। ফোলা চোখ ও ছেঁড়া জামা পরা অবস্থায় তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনেই বিজেপির দুষ্কৃতীরা আমার উপর হামলা চালিয়ে মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দাবি করেছেন, বিজেপি দুষ্কৃতীরা উপাসনা চৌধুরীর বাড়িতেও ভাঙচুর চালিয়েছে।
তবে শাসকদলের সমস্ত অভিযোগ ঝেড়ে ফেলেছে বিজেপি। রাজ্য পদ্মশিবিরের মুখপাত্র সপ্তর্ষি চৌধুরী জানান, এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি পুরোপুরি তৃণমূলের নিজস্ব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। ‘সব পাওয়া’ আর ‘কিছু না পাওয়া’ গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির দায় এখন বিজেপির ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা চলছে বলে পাল্টা দাবি করেন তিনি।