ফরাক্কা বাইপাস করে বাংলাদেশে জল, গঙ্গার ভাঙনে কি তলিয়ে যাবে কলকাতা বন্দর?
বার্তা ডেস্কঃ
September 23, 20267:25 am
মালদার মানিকচক ও ভুতনিতে গঙ্গার লাগাতার নদী-ভাঙন এক অভূতপূর্ব ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। নদী ক্রমশ নিজের মূল গতিপথ বদলে ফেলছে। মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে থাকা ফুলহার নদীর সঙ্গে যদি গঙ্গা মিশে যায়, তবে পুরো জলপ্রবাহ ফরাক্কা ব্যারাজকে বাইপাস করে সরাসরি ঢুকে পড়বে বাংলাদেশে। আর এমনটা ঘটলে কার্যত অকেজো হয়ে পড়তে পারে ঐতিহাসিক ফরাক্কা ব্যারাজ, আর তীব্র জলসংকটে স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে কলকাতা বন্দরের জাহাজ চলাচল!
কেন তৈরি হল এই জটিল সংকট? সেচ দপ্তরের প্রকৌশলীদের মতে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ভূতাত্ত্বিক কারণ। বিহার ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তে রাজমহল পাহাড় সংলগ্ন গঙ্গার বুকে বিশালাকার চর তৈরি হওয়ায় জলের মূল স্রোত বাধা পেয়ে সোজা ধাক্কা খাচ্ছে মালদা ও মুর্শিদাবাদের উপকূলে। ফলে নদীপাড় জুড়ে শুরু হয়েছে ধস।
বিপন্ন কলকাতা বন্দর ও পূর্ব ভারতের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরাক্কা ব্যারাজ দিয়ে পর্যাপ্ত জল ভাগীরথী-হুগলি নদীতে না পৌঁছলে নাব্যতা দ্রুত হ্রাস পাবে। ফলে কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, যা প্রভাব ফেলবে গোটা পূর্ব ভারতের নৌ-বাণিজ্যে। পাশাপাশি, জলপ্রবাহ দিক হারালে ফরাক্কার আন্তর্জাতিক জলচুক্তি এবং জাতীয় নদী প্রকল্প বড়সড় সংকটের মুখে পড়বে।
বিপর্যয় সামলাতে ৩ রাজ্যের সমন্বয় চায় নবান্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) জমা দিয়েছে রাজ্য সেচ দপ্তর। আইআইটি রুরকি (IIT Roorkee)-কে দিয়ে এই প্রকল্পের মূল ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করানো হয়েছে এবং পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে আইআইটি কানপুর ও সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের।
সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস জানিয়েছেন, এই স্থায়ী ভাঙন রোধ করা একা কোনও রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য বিপুল অঙ্কের কেন্দ্রীয় সাহায্য এবং গঙ্গা অববাহিকার তিন রাজ্য— পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের একযোগে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পাড় বাঁধানো না হলে মানচিত্র থেকেই মুছে যেতে পারে মানিকচক ও ভুতনির বিপুল জনবসতি ও কৃষিজমি।