পুজোর মুখে ডেঙ্গির আতঙ্ক, নবান্নে জরুরি বৈঠক!
বার্তা ডেস্কঃ
September 29, 20262:00 pm
কলকাতা: উৎসবের আবহেই রাজ্য জুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। বছরের শুরু থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৩২০ ছাড়িয়েছে। চিন্তার বিষয় হলো, এর মধ্যে ২৫০০ জনেরও বেশি সংক্রমিত হয়েছেন গত মাত্র দু’সপ্তাহেই! আক্রান্তের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা (প্রায় ২,০০০), যার পর তালিকায় রয়েছে কলকাতা, নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনা।
বর্তমানে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে দিনে গড়ে প্রায় একশো জন নতুন করে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ভারী বৃষ্টির দেখা নেই। ফলে জমে থাকা জল ধুয়ে যাওয়ার সুযোগ কম, যা মশার বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
নির্মীয়মাণ পুজো মণ্ডপ ও তার আশপাশে জমা জল নিয়ে উদ্বেগে স্বাস্থ্য ভবন। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে নবান্নে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসকে ‘হাই-রিস্ক পিরিয়ড’ বা সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে চিহ্নিত করে সব জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকার ডেঙ্গি মোকাবিলা ও মৃত্যু রুখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উপসর্গ দেখা দিলেই সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার হাসপাতালগুলির জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
কলকাতা পুরসভাও মণ্ডপগুলিতে নজরদারির জন্য তৈরি করেছে বিশেষ মনিটরিং সেল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডে। মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় জমা জলে মশার লার্ভা ধ্বংস করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অভিদীপ্ত হাজরা সতর্ক করে জানান, পুজোর দিনগুলিতে প্যান্ডেল দর্শনার্থী ও খাবারের দোকানের ভিড় বাড়বে। প্লাস্টিক বা থার্মোকলের চায়ের কাপ ও গ্লাসে জল জমে মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে, তাই দ্রুত বর্জ্য পরিষ্কার করা জরুরি। গত বছরের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও প্রশাসন এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটাই বার্তা— আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই, সচেতনতাই এখন প্রধান অস্ত্র।