নোটিস দিলেও বরখাস্ত, না দিলেও জেল! তীব্র আতঙ্কে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 202610:38 am
কলকাতা পুরসভায় (KMC) বর্তমানে কাজ করা নিয়ে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে। বিশেষ করে বিল্ডিং বিভাগের কর্মীরা পড়েছেন উভয়সংকটে। নিয়মানুযায়ী আইনি পদক্ষেপ করলেও মিলছে বরখাস্তের আদেশ, আবার পদক্ষেপ না করলে জুটছে হাজতবাস! সাম্প্রতিক দুটি পৃথক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অন্দরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
নোটিস দিয়ে বরখাস্ত এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার গত ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা পুর-কমিশনারের নির্দেশে ৭ নম্বর বরোর বিল্ডিং বিভাগের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়। তাঁর অপরাধ—তিনি বেলেঘাটার ক্যানাল সাউথ রোডের একটি বহুল আলোচিত বেআইনি নির্মাণ (যেটি স্থানীয়ভাবে ‘মাছবাজারের বাড়ি’ নামে পরিচিত) খালি করা ও ভাঙার নোটিস দিয়েছিলেন। কিন্তু নোটিস দেওয়ার আগে তিনি বিল্ডিং বিভাগের ডিজি বা উচ্চপদস্থ কর্তাদের জানাননি। ইঞ্জিনিয়ারদের অভিযোগ, ওই বিতর্কিত বেআইনি নির্মাণটি নিয়ে বছরের পর বছর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে।
নোটিস না দেওয়ায় জেলে সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অন্যদিকে, তারাতলার ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডে একটি নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ১৬ নম্বর বরোর ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে (এসএই) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, তিনি কেন আগাম নোটিস দেননি। ওই ইঞ্জিনিয়ারের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন পুরসভার সমস্ত বিভাগের এসএই-রা।
উভয়সংকটে ইঞ্জিনিয়ার মহল পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জাঁতাকলে পড়ার মতো:
- নোটিস না দিলে গুদাম বা বাড়ি ভেঙে পড়লে হতে হচ্ছে গ্রেপ্তার ও হাজতবাস।
- আবার বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে নিয়ম মেনে নোটিস দিলে (শুধু ওপরমহলে না জানানোর কারণে) হতে হচ্ছে বরখাস্ত!
এই দ্বিমুখী নীতির কারণে কীভাবে ও কোন নিয়মে কাজ করবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা।