জম্মু সিআইএসএফ ক্যাম্পে জওয়ানের গুলিতে নিথর ৪ সহকর্মী!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 202611:08 am
জম্মু ও কাশ্মীর: জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিজের কাছে থাকা সরকারি একে-৪৭ (AK-47) রাইফেল দিয়ে সহকর্মীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করার অভিযোগ উঠল এক সিআইএসএফ (CISF) জওয়ানের বিরুদ্ধে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনীর এক সহকারী কমান্ড্যান্ট ও এক ইন্সপেক্টর। এই নজিরবিহীন ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল কাঠুয়ার ক্যাম্পে? ঘটনাটি ঘটেছে কাঠুয়ার বাসোহলি এলাকার অন্তর্গত ‘সেবা পাওয়ার প্রজেক্ট’-এর সুরক্ষায় মোতায়েন সিআইএসএফ ক্যাম্পে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে জওয়ানদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বচসা চরমে উঠলে ২০০৯ ব্যাচের সিআইএসএফ কর্মী অভিদেশ সিং চরম সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তাঁর কাছে থাকা একে-৪৭ রাইফেল ও প্রায় ১৫০ রাউন্ড গুলি নিয়ে সহকর্মীদের ওপর অন্ধের মতো গুলি চালাতে থাকেন।
ঝাঁঝরা হলেন ৪ সহকর্মী: জওয়ানের আচমকা এই হামলায় গুরুতর আহত হন চার কর্মী। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিহত চার সিআইএসএফ কর্মী হলেন:
- রফিক আহমেদ (কনস্টেবল)
- সন্দীপ কুমার (কনস্টেবল)
- অঙ্কিত কুমার পান্ডে (সহকারী কমান্ড্যান্ট)
- লক্ষ্মণ সিং (সাব-ইন্সপেক্টর)
পুলিশের গ্রেপ্তার ও যৌথ তদন্ত: ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই কাঠুয়া জেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত জওয়ান অভিদেশ সিংকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয়; বরং অভ্যন্তরীণ বিবাদের জেরেই এই রক্তাক্ত ঘটনাটি ঘটেছে। ঠিক কী কারণে এই মারাত্মক বচসার সূত্রপাত, তা জানতে কাঠুয়া পুলিশ ও সিআইএসএফ যৌথভাবে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে। পুরো ক্যাম্পটি ঘিরে ফেলে পুরো ঘটনার ক্রম খতিয়ে দেখছে পুলিশ।