শুধু পুলিশি স্বীকারোক্তিতেই এনএসএ নয়, যোগী সরকারকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের!
বার্তা ডেস্কঃ
September 30, 202611:22 am
জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর বেআইনি প্রয়োগের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কড়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্ভল হিংসা মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত মুল্লা আফরোজের বিরুদ্ধে জারি করা NSA আটকাদেশ খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিরোধমূলক আটক আইনের ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে যোগী সরকারের উপর ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা চাপানো হয়েছে।
বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুরের বেঞ্চ এলাহাবাদ হাইকোর্টের আগের নির্দেশ খারিজ করে আফরোজকে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে (অন্য কোনো মামলায় হেফাজতের প্রয়োজন না থাকলে)।
ঘটনাটির প্রেক্ষাপট:
- ২০২৪ সালের নভেম্বর: সম্ভলের শাহী জামা মসজিদে আদালতের নির্দেশে সমীক্ষা চালানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সহিংসতায় চারজনের মৃত্যু হয়।
- ২০২৫ সালের জানুয়ারি: পুলিশ মুল্লা আফরোজকে এই হিংসার ‘মাস্টারমাইন্ড’ দাবি করে গ্রেফতার করে।
- ২০২৫ সালের অক্টোবর: বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই সম্ভলের জেলাশাসক আফরোজের বিরুদ্ধে NSA-র ৩(২) ধারায় আটকাদেশ জারি করেন।
- ২০২৬ সালের জুন: এলাহাবাদ হাইকোর্ট পুলিশি পদক্ষেপকে বহাল রাখে, যার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়।
কেন NSA আটকাদেশ খারিজ করল শীর্ষ আদালত? সুপ্রিম কোর্টে আফরোজের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে, পুলিশি হেফাজতে দেওয়া একটি কথিত স্বীকারোক্তির উপর নির্ভর করেই তাঁর বিরুদ্ধে এই কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
মামলার শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—
- কেবল পুলিশি হেফাজতে পাওয়া স্বীকারোক্তিকে ভিত্তি করে NSA-র মতো প্রতিরোধমূলক আইনে কাউকে আটক রাখা যায় না।
- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির পারিপার্শ্বিক তথ্য ও পরিস্থিতি বিচার না করেই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
আইনি পর্যবেক্ষণ: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, এই রায় শুধুমাত্র NSA-র আওতায় প্রতিরোধমূলক আটকের আইনি বৈধতা সম্পর্কিত। সম্ভল হিংসার মূল মামলায় আফরোজের ভূমিকা বা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে শীর্ষ আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি; মূল মামলার বিচার আইন অনুযায়ী আলাদাভাবেই পরিচালিত হবে।