প্রেমের বিয়ে, তারপরই নির্মম শেষ! বারাসাতে বছর ঘোরার আগেই দুই তরুণীর রহস্যমৃত্যু!

বার্তা ডেস্কঃ

বারাসাত: ভালোবাসার সম্পর্ক পরিণতি পেয়েছিল ছাদনা তলায়। কিন্তু সেই সুখের দিন বছরও পার করল না। তার আগেই রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারালেন দুই নববধূ। মঙ্গলবার রাতে বারাসাত শহরের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই জোড়া ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে বারাসাত থানার পুলিশ।

প্রসেনজিতের গোপন অতীত ও রিয়ার পরিণতি

দমদমের বাসিন্দা রিয়া দেবনাথ একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। কাজের সূত্রেই পরিচয় বারাসাতের শালবাগানের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বসুর সঙ্গে। পরিবারের অমতে মাত্র তিন মাস আগে প্রসেনজিৎকে বিয়ে করেন রিয়া।

কিন্তু বিয়ের পর সামনে আসে প্রসেনজিতের গোপন অতীত। অভিযোগ, প্রসেনজিতের আগে দু’টি বিয়ে হয়েছিল— এক স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং অন্য পক্ষের একটি ছেলে রয়েছে। এই তথ্য গোপন করে বিয়ে করার বিষয়টি জানতে পারার পরই দম্পতির মধ্যে শুরু হয় অশান্তি। রিয়ার পরিবারের দাবি, মদ্যপ অবস্থায় রিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন প্রসেনজিৎ।

মঙ্গলবার রাতে অশান্তি চরমে উঠলে দমদম থেকে রিয়ার মা-বাবা বারাসাতে শালবাগানের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, ঘরে গলায় ওড়নার ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন রিয়া। মৃতার মা সোনালি দেবনাথের অভিযোগ, “আমার মেয়েকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বারাসাত থানার পুলিশ ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। এই ঘটনায় রিয়ার স্বামী প্রসেনজিৎ বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পণের দাবি ও অর্ণবীর মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত

অন্য ঘটনাটি বারাসাতের বাদু গুস্তিয়ার। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পরিবারের আসাম্মতি সত্ত্বেও ভালোবেসে সৌম্যদীপ সেনগুপ্তকে বিয়ে করেছিলেন এসএফআই কর্মী অর্ণবী চট্টোপাধ্যায়। বাবা মারা যাওয়ার পর অর্ণবী তাঁর মায়ের সঙ্গেই থাকতেন।

অভিযোগ, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই বাপের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা এনে দেওয়ার জন্য অর্ণবীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোক। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন তরুণী।

মঙ্গলবার রাতে বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন অর্ণবী। কিন্তু সেখানে স্বামী সৌম্যদীপ, শ্বশুর সমীর সেনগুপ্ত এবং শাশুড়ি মিতা সেনগুপ্ত তাঁকে চরম অপমান ও হেনস্থা করে ফিরিয়ে দেন। অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। সে সময় বাড়িতে মা ছিলেন না। ফাঁকা বাড়িতেই আত্মঘাতী হন ওই তরুণী।

অর্ণবীর মা কাকলি চট্টোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পণের দাবি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা রুজু করে পুলিশ। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতার স্বামী সৌম্যদীপ সেনগুপ্ত, শ্বশুর সমীর সেনগুপ্ত এবং শাশুড়ি মিতা সেনগুপ্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *