৩০ বছরের শোষণ, মানবিকতা কি হারিয়ে গেছে!

বার্তা ডেস্কঃ

কলকাতা: দীর্ঘ তিন দশক ধরে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ না করা এবং বঞ্চনা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দূরদর্শন কর্তৃপক্ষকে নজিরবিহীনভাবে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতেই দূরদর্শনের আইনজীবীর পেশ করা আইনি যুক্তি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের কি কোনও মানবিকতা নেই? আইনি ফাঁকফোকর দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যুক্তি সাজিয়ে কোনও লাভ নেই। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যে চরম শোষণ চলছে, সেটাই সব থেকে বড় প্রমাণ।”

বিভাগীয় বেঞ্চ আরও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো সংস্থাই এমন অমানবিক আচরণ দিনের পর দিন চালিয়ে যেতে পারে না। বম্বে হাইকোর্টের প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি স্মরণ করিয়ে দেন, ঠিক যে কঠোর অবস্থান নিয়ে নর্দমা পরিষ্কারে মানুষকে নামানোর বিরুদ্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এই ক্ষেত্রেও তেমন কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।

কী ছিল মূল মামলা? আদালতে জানানো হয়, এক মামলাকারী ১৯৮৯ সাল থেকে দূরদর্শনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৬ সালে তাঁর চাকরি স্থায়ীকরণের নির্দেশ মিললেও, কর্তৃপক্ষের গড়িমসির কারণে তা কার্যকর হয়নি। অবশেষে স্থায়ীকরণ ছাড়াই ২০২৪ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

এই তথ্য শুনে প্রধান বিচারপতি কড়া সুরে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯২ সালের নির্দিষ্ট নীতি মেনে ওই কর্মীর বকেয়া প্রাপ্য ও সমস্ত অধিকার অবিলম্বে বুঝিয়ে দিতে হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ: দূরদর্শনের আইনজীবী লিখিত নির্দেশ পেতে কিছুটা সময় প্রার্থনা করলে আদালত আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করে। তবে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই দিনই অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে—কোনো অবস্থাতেই আদালত এই ধরনের শোষণকে সমর্থন করবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *