ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা!
বার্তা ডেস্কঃ
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই (Flydubai) বিমানের ককপিটে চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় এবার সরাসরি ইরানের যোগসূত্র দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এই ঘটনার পেছনে তেহরানের হাত থাকলে ইরানকে “কঠোর আঘাত” হানার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে? বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুবাই FZ1073’ বিমানে ককপিটের ভেতরেই মুখ্য পাইলট স্মিত মচ্ছরের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় বিমানের ওমানি কো-পাইলট। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫০ জনই ছিলেন ইজরায়েলি নাগরিক। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানটিকে মাঝআকাশে ভেঙে ফেলার (ক্র্যাশ) উদ্দেশ্যে উগ্রবাদী মানসিকতা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে পাইলট স্মিত মচ্ছরের অসীম সাহসিকতা ও তৎপরতার কারণে বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পান সমস্ত যাত্রী।
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, হামলাকারী কো-পাইলট “ইসলামপন্থী উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত”। এই হামলার পেছনে ইরানের কোনো উসকানি বা চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সুর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তদন্ত চলছে। যদি এই হামলার পেছনে ইরানের কোনো সংযোগ পাওয়া যায়, তবে তেহরানের ওপর আরও বড় ধরনের প্রহার করা হবে।”
রণতরী ও ১০ হাজার সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা: ঘটনার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়াতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন।
- মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস থিওডোর রুজ়ভেল্ট’ ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
- আমেরিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের আশপাশে আরও ৩টি বিমানবাহী রণতরী এবং ২টি ল্যান্ডিং গ্রুপ মোতায়েন করা হচ্ছে।
- আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই ওই অঞ্চলে নতুন করে আরও ১০,০০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মিড-টার্ম নির্বাচনের আগেই ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপ এবং সামরিক মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।