পূর্বস্থলীতে ট্র্যাক্টর চাপা দিয়ে খুনের চেষ্টা, কাঠগড়ায় দলেরই প্রাক্তন নেতা!

বার্তা ডেস্কঃ

বাড়ি থেকে স্কুটারে করে বেরোনোর সময় আচমকাই পিছন থেকে একটি দ্রুতগামী খালি ট্র্যাক্টর এসে সজোরে ধাক্কা মারে স্কুটারে। গুরুতর জখম অবস্থায় কালনা মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিজেপির পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ৩ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সুজিত হালদার। এটি সাধারণ পথ দুর্ঘটনা নয়, বরং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাঁকে চক্রান্ত করে মেরে ফেলার চেষ্টা হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন জখম বিজেপি নেতা।

কী দেখা গেছে সিসিটিভি ফুটেজে? বৃহস্পতিবার পরিবারের তরফে একটি চাঞ্চল্যকর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনা হয়। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি লাল রঙের স্কুটারে চেপে সুজিতবাবু মূল রাস্তায় ওঠার পরপরই একটি খালি ট্র্যাক্টর অত্যন্ত দ্রুত গতিতে তাঁর পিছু নেয় এবং ধাক্কা মারে।

তৃণমূল নয়, অভিযোগ নিজেরই দলের প্রাক্তন নেতার বিরুদ্ধে: হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই আক্রান্ত বিজেপি নেতা সুজিত হালদার সরাসরি আঙুল তুলেছেন দলেরই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তথা বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য অতুলচন্দ্র দাসের দিকে। সুজিতের দাবি:

  • “এটা সম্পূর্ণ চক্রান্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিহিংসার ফল।”
  • নিমদহের ছাতনিতে এক ব্যক্তির সরকারি জমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগে ব্লক প্রশাসনকে সাহায্য করার কারণেই প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
  • এই পদ ও তাঁর ভালো কাজ সহ্য করতে না পেরেই এমন আক্রমণ চালানো হয়েছে।

জখম নেতার মা তপতি হালদারের দাবি, “এটা কোনও দুর্ঘটনা নয়, ছেলে ভালো কাজ করছে বলেই দলের শত্রুরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।”

অভিযোগ নস্যাৎ প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতির: সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতা অতুলচন্দ্র দাস। তাঁর বক্তব্য, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দুর্ঘটনা দেখে আমি সুজিতকে দেখতে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম, ঠিক তখনই শুনলাম ও আমার নামেই মিথ্যা বয়ান দিয়েছে। আমারও দুর্ঘটনা হয়েছিল, আমি তো কারও ওপর দোষ চাপাইনি! ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, প্রশাসনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি এই ধরণের রাজনীতি করি না।”

পুলিশ ও বিধায়কের ভূমিকা: ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে জখম নেতার খোঁজখবর নেন পূর্বস্থলী উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে সত্যি ঘটনা সামনে আনা এবং তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত শুরু করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *