উজ্জয়িনীর সেই রহস্যময় মন্দির, যেখানে মদের পেয়ালা ছোঁয়ালেই উধাও!

বার্তা ডেস্কঃ

সাধারণত মন্দিরে পুজো দিতে গেলে আমরা ফল, মিষ্টি কিংবা নারকেল নিয়ে যাই। কিন্তু ভারতের এমন একটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে, যেখানে দেবতাকে দেওয়া প্রধান ভোগই হলো মদ! মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী শহরের শিপ্তা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কালভৈরব মন্দির তার এই অদ্ভুত ও রহস্যময় প্রথার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

ঠোঁটে ছোঁয়াতেই উধাও মদ!

এই মন্দিরের সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো মদের নিবেদনের পদ্ধতি। ভক্তরা মদের বোতল নিয়ে এলে পুরোহিত প্রথা মেনে পুজো করার পর একটি পাত্রে কিছুটা মদ ঢালেন। এরপর সেই পাত্রটি কালভৈরবের মূর্তির ঠোঁটের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে পাত্রের সমস্ত মদ নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায়! এই মদ ঠিক কোথায় যায়, তার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজও মেলেনি। ভক্তদের বিশ্বাস, এটি কালভৈরবের সরাসরি অলৌকিক মহিমা।

তান্ত্রিক প্রথা ও প্রাচীন ইতিহাস

স্কন্দ পুরাণে উল্লেখ থাকা এই মন্দিরের সঙ্গে তান্ত্রিক ঐতিহ্যের গভীর যোগ রয়েছে। তান্ত্রিক সাধনার ‘পঞ্চকার’ আচারের (মদ, মাংস, মাছ, মুদ্রা ও মৈথুন) অংশ হিসেবেই এখানে মদ নিবেদনের প্রথা শুরু হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে অন্য জায়গায় এই নিয়ম পরিবর্তিত হলেও, কালভৈরব মন্দিরে যুগ যুগ ধরে এই প্রথা একইভাব বজায় রয়েছে। কালভৈরবকে ভগবান শিবের উগ্র রূপ হিসেবে পুজো করা হয়।

মন্দির চত্বরেই সরকারি মদের দোকান

ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সালে সরকার মন্দির চত্বরেই একটি বিশেষ মদের দোকান খোলে, যাতে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের বেশি দাম দিয়ে বাইরে থেকে মদ কিনতে না হয়। ভক্তরা ফুল, ফল ও নারকেলের সঙ্গেই মদের বোতল কেনেন।

  • দৈনিক ভোগ: লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, এই মন্দিরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২,০০০ বোতল মদ নিবেদন করা হয়।
  • প্রসাদ বিতরণ: দেবতাকে নিবেদন করার পর বোতলের বাকি মদ ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ হিসেবে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

কখন যাবেন এবং কী বিশ্বাস?

রবিবার ও মঙ্গলবার কালভৈরব পুজোর জন্য অত্যন্ত শুভ দিন। এই দুই দিনে মন্দিরে সবচেয়ে বেশি ভক্তের সমাগম ঘটে। ভক্তদের বিশ্বাস, মহাকালের নগরে কালভৈরবের পুজো দিলে জীবনের সমস্ত ভয়, কষ্ট এবং নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে যায়।

আধ্যাত্মিক বিশ্বাস, অলৌকিক রহস্য আর তান্ত্রিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে উজ্জয়িনীর এই কালভৈরব মন্দির আজও দর্শনার্থীদের কাছে এক অপার বিস্ময়!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *