লাইনের ঝামেলা শেষ! বাড়িতে বসেই মিলবে শিশুর আধার ও জন্ম সনদ!
বার্তা ডেস্কঃ
সন্তান জন্মের পর আধার কার্ড, জন্ম সার্টিফিকেট কিংবা কাস্ট সার্টিফিকেট বানানোর ঝক্কি পোহাতে হয় প্রায় প্রতিটি পরিবারকেই। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকার মানুষদের এই কাজের জন্য পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। সাধারণ মানুষের এই কষ্ট দূর করতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল মালবাজার মহকুমা প্রশাসন। রাজ্যে প্রথম পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু হলো ‘পরিচয়’ (Parichay Project)। এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে প্রয়োজনীয় নজির তৈরির কাজ, আর তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে সরাসরি বাড়িতে।
কী এই ‘পরিচয়’ প্রকল্প?
জলপাইগুড়ির মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চালু হয়েছে এই অভিনব ব্যবস্থা। প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে সেখানে থাকবেন পোস্ট অফিসের একজন কর্মী। নবজাতকের আধার তৈরির জন্য হাসপাতালেই এনরোলমেন্টের কাজ সম্পন্ন করা হবে। সাধারণত আধার এনরোলমেন্ট নম্বর তৈরি হতে প্রায় সাত দিন সময় লাগে। নম্বর তৈরি হয়ে যাওয়ার পর তা পোর্টালে আপলোড করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভাকে সেই তথ্য জানানো হয়। এরপর পঞ্চায়েত বা পুরসভার কর্মীরা শিশুর কাস্ট সার্টিফিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
হাসপাতাল থেকেই শুরু হয় সমস্ত প্রক্রিয়া
শিশু জন্মের সঙ্গেসঙ্গেই হাসপাতালেই পূরণ করা হয় জন্মের সার্টিফিকেটের ফর্ম। একই জায়গায় শুরু হয় আধার এবং কাস্ট সার্টিফিকেট তৈরির প্রাথমিক কাজও। এর ফলে অভিভাবকদের আলাদা করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর বা চক্কর কাটার প্রয়োজন পড়ে না।
২১ দিনের মধ্যে হাতে মিলবে নথি
প্রশাসনের পক্ষ থেকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে যাতে শিশু জন্মের প্রায় ২১ দিনের মধ্যেই আধার কার্ড, জন্মের সার্টিফিকেট এবং কাস্ট সার্টিফিকেট সরাসরি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যায়। তবে বিশেষ কোনো কারণে সামান্য বিলম্ব হলেও সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সম্পূর্ণ কাজটির জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ ও তথ্যভিত্তিক পোর্টাল তৈরি করা হয়েছে।
মালবাজারের মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডালের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই প্রকল্প নিঃসন্দেহে রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনকে অনেক সহজ করে তুলবে। প্রশাসনের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগ সম্পূর্ণ প্রথম।