দুর্গাপুজোর পরেই বড় বিপাকে ইন্দ্রনীল সেন, কী এই নতুন দুর্নীতির অভিযোগ?

বার্তা ডেস্কঃ

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে ফের দানা বেঁধেছে তীব্র বিতর্ক। দুর্গোৎসবের পাস বিক্রি থেকে শুরু করে ‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্প—এর আগে একাধিক বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এবার সেই বিতর্কের তালিকায় নতুন সংযোজন হলো ‘ন নজরুল মহোৎসব’। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে শিশির মঞ্চে আয়োজিত একই অনুষ্ঠানের সরকারি খরচে অস্বাভাবিক ফারাক নজরে আসতেই নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও একটি অভিযোগ জমা পড়েছে বলে খবর।

এক বছরেই খরচে এত ফারাক কেন?

২০২৫ সালে শিশির মঞ্চে জমকালো আয়োজনে নজরুল মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেই বছরের অনুষ্ঠানে মোট খরচ দেখানো হয়েছিল ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৩ টাকা।

কিন্তু এর ঠিক এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালে শিশির মঞ্চেই ফের নজরুল মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। তবে এ বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমেই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বছর সরকারি হিসাবে অনুষ্ঠান বাবদ খরচ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা!

মাত্র এক বছরের ব্যবধানে একই মাপের একটি অনুষ্ঠানে খরচের অঙ্কে এত বিশাল ফারাক দেখে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ উঠেছে, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন এই মহোৎসবের আয়োজনেও বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি হয়েছিল। শুধু প্রাক্তন মন্ত্রী একাই নন, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের একাধিক আধিকারিক, এমনকি শিশির মঞ্চের আধিকারিক তপন তরফদারের নামও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে।

দুর্গাপুজোর পাস ও ‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্প নিয়েও তদন্ত

নজরুল উৎসবের আগে দুর্গাপুজোর ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শোয়ের টিকিট বিক্রি ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইউনেসকোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টেও পাঠানো হয়েছিল। যদিও প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি ছিল, ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। ইডির এই তদন্তের পাশাপাশি রাজ্যের দুর্নীতি দমন কমিশনও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

পাশাপাশি, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের দায়িত্বে থাকাকালীন ‘বাংলা মোদের গর্ব’ প্রকল্পের কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং মন্ত্রীঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। একের পর এক গুরুতর অভিযোগে কোণঠাসা প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *