পুজোয় কলকাতার ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে কোন পথে চলবেন?
বার্তা ডেস্কঃ
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ আর থিকথিকে ভিড়। আর এই ভিড় সামলাতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে আগে থেকেই তৎপর হয়ে উঠল কলকাতা পুলিশ। পুজোর দিনগুলিতে যানজট এড়াতে একগুচ্ছ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর দুপুর থেকে ১৬ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় চালু থাকবে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা। মূলত প্রতিমা বহনকারী গাড়ি এবং পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ বলবৎ করা হবে।
কোন পথে চলবে প্রতিমা ও পণ্যবাহী গাড়ি? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা নিয়ে রবীন্দ্র সরণির দিকে যাওয়া গাড়িগুলিকে নির্দিষ্ট রুট দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ, রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট এবং অরবিন্দ সরণি ব্যবহার করতে হবে গাড়িগুলিকে। এছাড়া কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা বেরোনোর সময় মদনমোহন তলা, বাগবাজার স্ট্রিট ও স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মনে রাখবেন, প্রতিমা বহনকারী গাড়ি ছাড়া অন্য কোনও পণ্যবাহী গাড়িকে রবীন্দ্র সরণিতে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
বিকল্প রুট ও পার্কিং নিষেধাজ্ঞা: পণ্যবাহী গাড়িগুলির জন্য একাধিক বিকল্প রাস্তা ঠিক করে দিয়েছে পুলিশ। স্ট্র্যান্ড রোড, নিমতলা ঘাট স্ট্রিট, বি কে পাল অ্যাভিনিউ, যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ ও গিরিশ অ্যাভিনিউ দিয়ে এই গাড়িগুলি যাতায়াত করবে। এছাড়া শোভাবাজার রোড থেকে ডিসি ব্যানার্জী রোডের মধ্যবর্তী স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোডে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে গাড়ি পার্কিং। মহালয়ার দিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকা এবং স্ট্র্যান্ড রোডেও কড়াকড়ি থাকবে।
কবে থেকে কড়া বিধি? আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থাৎ তৃতীয়া থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন রুটে পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হবে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গাড়িগুলি এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবে। শুধু তাই নয়, প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকছে। দশমীর পর থেকে লক্ষ্মীপুজোর আগে পর্যন্ত গার্ডেনরিচ রোড, কালীঘাট ও বাগবাজার রোড সহ ঘাটমুখী বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ। পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে তাই এই ট্রাফিক রুটগুলো জেনে রাখা জরুরি!