অমিত শাহের মাস্টারস্ট্রোকে তুরস্ক থেকে সোজা জালে মাদকসম্রাট নবপ্রীত!
বার্তা ডেস্কঃ
তুরস্ক থেকে দেশে এল আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের মূল পান্ডা নবপ্রীত সিং। ভুয়ো পরিচয় এবং তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়ে আফগানিস্তান থেকে ভারতে কোটি কোটি টাকার হেরোইন ও মেথামফেটামিন পাচার চালিয়ে যাচ্ছিল ৩৪ বছরের এই অপরাধী। ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সির এই সফল অপারেশনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কীভাবে ধরা পড়ল নবপ্রীত?
সুরক্ষা সূত্রের খবর, নবপ্রীত নিজের আসল পরিচয় গোপন করে ‘নবাব ভির্ক’ নামে তুর্কি মুলুকে ঘাঁটি গেড়েছিল। সেখান থেকেই সে ভারতে মাদকের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত। ভারতীয় গোয়েন্দা ও সুরক্ষা এজেন্সিগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় তার ভিন্দেশের জালিয়াত পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। এরপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে সে কড়া নিরাপত্তায় জেলের কুঠুরিতে বন্দি রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে এক্স (রীতিমতো টুইটার) হ্যান্ডলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লিখেছেন, “আমাদের এজেন্সিগুলো অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ওর মিথ্যা পরিচয় ফাঁস করে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সফল করেছে। মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধে অভিযুক্ত নবপ্রীত এখন জেলে। সব এজেন্সিকে অভিনন্দন জানাই। ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের আগেই দেশ থেকে সমস্ত মাদক-চক্র ধ্বংস করতে মোদী সরকার বদ্ধপরিকর।”
ভারতের ডানা ছাঁটার বড় ধাক্কা
নিরাপত্তা বাহিনীর বড়সড় সাফল্যে ধসে পড়ছে আন্তর্জাতিক মাদক সিন্ডিকেট। এর আগে গত মে মাসে আজারবাইজান থেকে প্রভদীপ সিং ওরফে ‘হ্যারি’ নামে আরেক পলাতক মাদক সম্রাটকে উড়িয়ে এনেছিল দিল্লি পুলিশ ও সিবিআই। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই প্রভদীপ আর নবপ্রীত সম্পর্কে তুতো ভাই। ভারতে নবপ্রীতের অবৈধ কারবারের অন্যতম তদারককারী ছিল এই প্রভদীপ। এছাড়া গত এপ্রিলে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ মাদক পাচারকারী মহম্মদ সালিম দোলাকেও তুরস্ক থেকে ভারতের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
ভারতের ‘ভারতপোল’ কৌশলের সাফল্য
ভারত ও তুরস্কের মধ্যে ২০০১ সালেই প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার ফলে গুরুতর অপরাধী বা সন্ত্রাসবাদীদের প্রত্যর্পণের পথ সুগম হয়। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের চালু করা ‘ভারতপোল’ (BharatPol) প্ল্যাটফর্ম এই ধরনের বড় অপারেশনগুলোর গতি বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। সিবিআই, রাজ্য পুলিশ, ইন্টারপোল এবং জেলা স্তরের পুলিশকে এক সুতোয় বেঁধে তৈরি এই আধুনিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন যেকোনো আন্তর্জাতিক অপরাধীর তথ্য শেয়ারিং এবং গ্রেফতারে মাসের পর মাস সময়ের পরিবর্তে মাত্র ১০ থেকে ২০ দিন সময় লাগছে।