কুলটিতে বহুতলে বিধ্বংসী আগুন, অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন ১৫০ বাসিন্দা!

বার্তা ডেস্কঃ

কুলটি: শনিবার রাত সাড়ে একটা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন নিয়ামতপুর-চিত্তরঞ্জন রোডের ছ’তলা আবাসনের বাসিন্দারা। আচমকাই প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এলাকা— ‘আগুন, আগুন!’ চিৎকারে ধড়ফড় করে ঘুম ভাঙে সবার। বাইরে বেরিয়ে দেখা যায়, বহুতলের বেসমেন্ট থেকে গলগল করে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া, আর নিচে দাউ দাউ করে জ্বলছে একাধিক গাড়ি ও মোটরবাইক। স্থানীয়দের তৎপরতায় দ্রত রাস্তায় নেমে আসেন আবাসনবাসীরা। বড়সড় প্রাণহানি না ঘটলেও এই অগ্নিকাণ্ড তুলে ধরেছে আবাসন সুরক্ষার এক ভয়াবহ ছবি।

এক নজরে মূল বিষয়:

  • কোথায় ঘটনা: কুলটির নিয়ামতপুর-চিত্তরঞ্জন রোড সংলগ্ন ছ’তলা আবাসন।
  • ক্ষয়ক্ষতি: বেসমেন্টে থাকা একাধিক দামি গাড়ি ও বাইক পুড়ে ভস্মীভূত।
  • বিপদের মাত্রা: ৩৯টি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের বসবাস, একতলায় রয়েছে একাধিক দোকান।

ই-বাইকের ব্যাটারি বিস্ফোরণেই কি আগুন? আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো তদন্তসাপেক্ষ বলে জানিয়েছে দমকল। তবে আবাসনবাসীদের একাংশের দাবি, বেসমেন্টের গ্যারাজে একটি ইলেকট্রিক মোটরবাইক চার্জে বসানো ছিল। সেই ই-বাইকের ব্যাটারি আচমকা বিস্ফোরিত হয়েই দাবানলের মতো আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

১০ বছর ধরে ‘জীবন হাতে নিয়ে’ বসবাস! তদন্তে নেমে চোখ কপালে উঠেছে দমকল কর্তৃপক্ষের। জানা গেছে, ৩৯টি ইউনিটের এই বিশাল বহুতলে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই! বিপদের সময় প্রাণ বাঁচিয়ে বেরোনোর জন্য রাখা হয়নি কোনো আপৎকালীন সিঁড়িও (Emergency Exit)। প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি তথা ওই বহুতলের বাসিন্দা হাবলা মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কার্যত প্রাণ হাতে নিয়েই এখানে বসবাস করছেন।

১ ঘণ্টা পর পৌঁছাল দমকল, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কুলটি বিধানসভা এলাকায় নিজস্ব কোনো দমকল কেন্দ্র নেই। ফলে খবর দেওয়া হয় ১২ কিলোমিটার দূরের আসানসোল দমকল কেন্দ্রে। সেখান থেকে ইঞ্জিন পৌঁছতে লেগে যায় প্রায় এক ঘণ্টা! কুলটিতে দ্রুত দমকল কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি ফের সোচ্চার হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয়, নিয়ামতপুরের ইস্কো বাইপাস রোড সংলগ্ন বামনডিহায় দমকল কেন্দ্র গড়ার জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

কড়া তদন্তের আশ্বাস প্রশাসন ও মন্ত্রীর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে। পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নমবলম জানান, “পুরোনো আবাসনগুলির অগ্নিনির্বাপক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হবে এবং নতুন নির্মাণের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম লাগু করা হবে।”

অন্যদিকে, অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ১০ বছর আগে কীভাবে এই বহুতল নির্মাণের ছাড়পত্র পেয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে কড়া তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দমকলের অফিসার ইনচার্জ চিন্ময় বক্সি জানান, আগুনের আসল কারণ জানতে তদন্ত চলছে এবং পুরো রিপোর্ট জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *