মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণে আলোর জাদু! চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল জয় ৩ বিজ্ঞানীর

বার্তা ডেস্কঃ

মস্তিষ্কের জটিল স্নায়ুকোষ বা নিউরনকে আলোর সাহায্যে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় করার অসাধারণ প্রযুক্তি ‘অপটোজেনেটিক্স’ (Optogenetics) আবিষ্কারের স্বীকৃতি মিলল আন্তর্জাতিক মঞ্চে। ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তিন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী— স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ল ডেইসারথ (৫৪), জার্মানির হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার হেগেম্যান (৭১) এবং ওয়ার্জবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ নাগেল (৭৩)।

সোমবার সুইডেনের স্টকহোমের কারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট এই ঐতিহাসিক নামগুলো ঘোষণা করে। বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার স্নায়ুবিজ্ঞানের (Neuroscience) গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে, যা পার্কিনসন্স, বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) এবং মৃগীর মতো কঠিন রোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সবুজ শ্যাওলা থেকে বৈপ্লবিক আবিষ্কারের পথচলা এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে একচিলতে সবুজ শ্যাওলা। শ্যাওলা কীভাবে আলোর দিকে সাঁতার কাটে— তা নিয়ে পরীক্ষা চালাতে গিয়ে বিজ্ঞানী পিটার হেগেম্যান এবং জর্জ নাগেল দেখেন, একটি বিশেষ প্রোটিন নীল আলো স্পর্শ করলেই আয়নের পথ খুলে দেয় এবং বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরি করে।

পরবর্তীতে মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসারথ সেই প্রযুক্তিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি নির্দিষ্ট জিনটি কাজে লাগিয়ে ইঁদুরের মস্তিষ্কের নিউরনে এমন এক ‘আলোক-সুইচ’ তৈরি করেন, যা আলোর মাধ্যমে সরাসরি অন (On) ও অফ (Off) করা সম্ভব। নোবেল কমিটির মতে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতিটি গবেষণাগারেই মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুরস্কার হিসেবে এই তিন বিজ্ঞানী যৌথভাবে পাবেন ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন (প্রায় ১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এই ঘোষণার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী নোবেল সপ্তাহ। আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম প্রকাশ করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *