নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চরম হুঁশিয়ারি!

বার্তা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: অপরাধ ঘটার পর কেবল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেই প্রশাসনের দায় শেষ হয়ে যায় না। দুষ্কৃতীদের মনে আইনের কঠোর ভয় না ঢোকাতে পারলে ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য অপরাধ রোখা আসাম্ভব—দিল্লি ও এনসিআর (NCR) এলাকার সাম্প্রতিক নৃশংস যৌন নির্যাতনের ঘটনায় কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট।

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, নির্যাতিতা নারীরা আলাদা কেউ নন, তাঁরা আমাদেরই পরিবারের সদস্য—কেউ মা, কেউ বা বোন। তাই তাঁদের সুরক্ষায় কোনো খামতি বরদাস্ত করা হবে না।

স্বতঃপ্রণোদিত মামলা ও আদালতের তীব্র ক্ষোভ সম্প্রতি দিল্লির একটি পার্কে গণধর্ষণ এবং একটি চলন্ত স্লিপার বাসে নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের মতো বেশ কয়েকটি রোমহর্ষক ঘটনা সামনে আসে। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত শুনানি হয়। জনবহুল পার্ক ও পাবলিক বাসগুলোতে সাধারণ নারীদের সুরক্ষায় পুলিশ এতদিন কী ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে কড়া জবাব তলব করেছে আদালত।

উৎসবের মরশুমে সতর্কতার নির্দেশ সামনেই দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মরশুম। এই উৎসবের দিনগুলোতে অপরাধীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায়, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে চরম সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি পারদিওয়ালা কড়া সুরে বলেন, “অপরাধীদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিতে না পারলে কাজের কাজ কিছুই হবে না। অপরাধীরা যাতে আইনকে ভয় পায়, তার জন্য যা করার অবিলম্বে করুন।”

আদালতের জোড়া গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ:

  • অনবচ্ছিন্ন সিসিটিভি নজরদারি: পার্কের প্রতিটি প্রবেশ ও প্রস্থান পথে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল: দিল্লি ও আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে এবং কোনো বিপদের আশঙ্কা দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পুলিশ কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৬ নভেম্বর। আদালতের এই কড়া পদক্ষেপের পর প্রশাসন কতটা তৎপর হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *