জ্ঞানেশ-বিক্ষোভে ধৃত ১৭ পড়ুয়া ও সাংবাদিক পেলেন জামিন!
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থী ও সাংবাদিককে জামিন দিল দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। মামলার শুনানিতে বিচারক অনিমেষ কুমার পর্যবেক্ষণ হিসেবে জানান, অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই অল্পবয়সি এবং তাঁদের কোনো অপরাধমূলক অতীত নেই; তাঁরা পেশাদার অপরাধী নন।
গত ৫ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে একটি বিক্ষোভ চলাকালীন এই ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সোমবার রাতে ধৃতদের আদালতে পেশ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর আবেদন জানানো হয়। পুলিশের দাবি ছিল, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) অমান্য করে বেআইনিভাবে জমায়েত করা হয়েছিল। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও কর্তব্যরত পুলিশকে হেনস্থা করার অভিযোগও আনে পুলিশ। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের আক্রমণে এক মহিলা কনস্টেবল আহত হন।
আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী সাইমন ফারুকি জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, তার প্রতিটিতেই সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কম। ফলে এই মামলায় আইনিভাবে গ্রেপ্তারের কোনো জরুরি প্রয়োজন ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ৫০ জন বিক্ষোভকারীর মধ্যে বেছে বেছে এই ১৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এমনকি ঘটনার সপক্ষে পুলিশ কোনো সিসিটিভি ফুটেজও আদালতে জমা দিতে পারেনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, অন-ডিউটি পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ এবং তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার থাকলেও সহিংসতার স্থান নেই। তবে অভিযুক্তদের কম বয়স এবং পেশাদার অপরাধী না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে ১৫ হাজার টাকার বন্ডে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
তবে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। জামিনে থাকাকালীন অভিযুক্তরা নতুন করে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারবেন না। নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা জমা দিতে হবে এবং ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটি সব সময় সচল রাখতে হবে। একই সঙ্গে, মামলার শুনানির দিন আদালতে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে এবং আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়া তাঁরা দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।