নানা পাটেকরের অকালপ্রয়াণ ও সম্পর্কের ভাঙন: কেন দূরত্ব তৈরি হয়েছিল জীবনে!

বার্তা ডেস্কঃ

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী ও বহুমুখী অভিনেতা নানা পাটেকর। ৭৫ বছর বয়সে গোয়ার বাসভবনে মধ্যরাতে আচমকা বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করায় তাঁকে ডোনা পাওলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের অমানুষিক চেষ্টা ও সিপিআর দেওয়া সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে অনুরাগী ও বিনোদন জগতে।

পর্দার দাপুটে অভিনয় আর স্পষ্টভাষী ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত নানা পাটেকরের বাস্তব জীবনটাও ছিল কোনো সিনেমাটিক গল্পের চেয়ে কম নয়।

শৈশব, মঞ্চ ও জীবনের প্রথম ধাক্কা মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মুরুদ-জঞ্জিরায় এক মারাঠি পরিবারে বিশ্বনাথ পাটেকর নামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই শিল্পী। নাট্যমঞ্চ থেকে কেরিয়ার শুরু করে বিখ্যাত পরিচালক বিজয়া মেহতার নির্দেশনায় নিজের অভিনয়ের যাত্রা নিশ্চিত করেন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে বাবাকে হারান নানা, যিনি ছিলেন তাঁর নাটকে আসার মূল অনুপ্রেরণা।

১৯৭৮ সালে ব্যাঙ্ককর্মী নীলকান্তি পাটেকরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। থিয়েটারে অভিনয় করার সময় থেকেই নানার কঠিন সংগ্রামের দিনগুলিতে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন স্ত্রী। তবে কেরিয়ারের সাফল্যের মুখ দেখার পরপরই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে চরম এক দুর্যোগ।

সন্তান হারানোর অপূরণীয় কষ্ট নানা ও নীলকান্তির প্রথম পুত্রসন্তান দুর্বাসা জন্ম থেকেই চোখের গুরুতর সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিল। মাত্র আড়াই বছর বয়সে খুদে দুর্বাসা পাড়ি দেয় না-ফেরার দেশে। প্রথম সন্তানের এই অকালমৃত্যু নানাকে ভেতর থেকে একদম দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছিল।

স্ত্রীর থেকে দূরত্ব ও মনীষা কৈরালার সঙ্গে প্রেম সন্তান হারানোর শোকের পর ধীরে ধীরে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কেও ফাটল ধরে। পরবর্তীতে আইনি বিচ্ছেদ না হলেও দীর্ঘ বছর স্ত্রী নীলকান্তির থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন অভিনেতা। এই সময়েই ‘অগ্নি সাক্ষী’ ও ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ছবির সেটে কাজ করার সময় অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে নানার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তবে সেই সম্পর্কও বেশিদিন টেকেনি। মনীষার পোশাক নির্বাচন ও পর্দায় অভিনীত চরিত্র নিয়ে নানার অতিরিক্ত অধিকারবোধ এবং পরবর্তীতে অভিনেত্রী আয়েশা জুলকারের সঙ্গে নানার ঘনিষ্ঠতার খবরের জেরে দুই শিল্পীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সাম্প্রতিক সিনেমা ভীষণ ধূমপানে অভ্যস্ত থাকলেও ৫৬ বছর বয়সে একদিন হঠাৎ করেই এই বদভ্যাস চিরতরে ত্যাগ করেন নানা। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের মতো করেই বেঁচেছেন তিনি। অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের শুরুতে মুক্তিপ্রাপ্ত বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ ছবিতে মুম্বই ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো প্রধানের ভূমিকায় এবং প্রাইম ভিডিওর ‘সুবেদার’ ছবিতে অনিল কাপুরের পাশে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়। এর আগে ‘হাউজ়ফুল ৫’ (২০২৫) ও ‘বনবাস’ (২০২৪)-এও দেখা গিয়েছিল তাঁকে।

রুপোলি পর্দায় কালজয়ী স্মৃতি রেখে বিদায় নিলেন এক নির্ভীক, আত্মমর্যাদাশীল ও অনন্য ধারার মহানায়ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *