বিয়ার পানের আসরে জোড়া খুন! মুখ থেঁতলে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
বার্তা ডেস্কঃ
রোহতক: বিয়ার পানের আসরে বচসা থেকে মর্মান্তিক জোড়া খুন! হরিয়ানার রোহতক জেলার হাসানগড় গ্রামে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দিল্লির বাসিন্দা সন্দীপ (যিনি পেশায় মুদির দোকান চালাতেন) এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা কবিতার ক্ষতবিক্ষত ও খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ গত ৪ অক্টোবর ঝাজ্জর জেলার আসোদা থানা এলাকার একটি খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নিহত সন্দীপের দুই বন্ধু নিতেশ ও সুভাষকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে।
মদের আসরে বচসা থেকেই মর্মান্তিক পরিণতি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সন্দীপ ও কবিতা গত কয়েক মাস ধরে হাসানগড় গ্রামে একসঙ্গে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন তাঁরা খারখোদায় বন্ধু নিতেশ ও সুভাষের সঙ্গে দেখা করতে যান। চারজন মিলে মদের আসরে বসার পর হঠাৎই কবিতা ও সন্দীপের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বচসা চরমে উঠলে সন্দীপ একটি ভাঙা বিয়ারের বোতল ও ছুরি দিয়ে কবিতার ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাঁকে হত্যা করে।
ঘটনা ঢাকতে দ্বিতীয় খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড চোখের সামনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেখে বন্ধু সন্দীপের সঙ্গে নিতেশের প্রচণ্ড বচসা বেঁধে যায়। ক্ষিপ্ত হয়ে নিতেশও ভাঙা বিয়ারের বোতল দিয়ে সন্দীপের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে উপর্যুপরি আঘাত করে খুন করে। একসঙ্গে দু’জনকে মৃত অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। এরপর অপরাধ লুকাতে তারা সন্দীপ ও কবিতার মুখ থেঁতলে দেয় এবং দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে পার্শ্ববর্তী খালের জলে ফেলে নিজেদের গাড়িতে করে চম্পট দেয়।
ফোন বন্ধ থাকায় খোলস ছাড়ল রহস্যের গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষবার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন সন্দীপ। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি হাসানগড়ে নিতেশের সঙ্গেই আছেন এবং দু-এক দিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের লোক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সন্দীপের ভাই রাকেশ তাঁকে খুঁজতে হাসানগড়ে পৌঁছানোর পরেই এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে।
সাম্পলা থানার ইনচার্জ মহেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, ধৃত দুই অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে চার দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ ও ঘটনার পেছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের জোরদার জেরা করা হচ্ছে।