অভিজ্ঞতাহীনদের নিয়োগে রণক্ষেত্র সুপ্রিম কোর্ট!

বার্তা ডেস্কঃ

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশীর নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো একটি জনস্বার্থ মামলা। সুরি পায়ালা নামে এক ব্যক্তি সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অধীনে এই রিট পিটিশনটি দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের এই উচ্চপর্যায়ের নিয়োগগুলোতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ২০২৩ সালের নতুন আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে।

আইন লঙ্ঘন ও তড়িঘড়ি নিয়োগের অভিযোগ মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, নতুন আইনের ৬ নম্বর ধারা অনুসারে সার্চ কমিটির কাজ হলো প্রতিটি শূন্যপদের বিপরীতে ৫ জন করে প্রার্থী নিয়ে প্যানেল তৈরি করা—অর্থাৎ দুটি শূন্যপদের ক্ষেত্রে অন্তত ১০ জনের নাম সুপারিশ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২৪ সালের মার্চ মাসে সার্চ কমিটি ১০ জনের জায়গায় মাত্র ৬ জনের নাম সুপারিশ করে। অথচ সুপ্রিম কোর্টও ২২ মার্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে প্যানেলে ১০ জনের নাম থাকা আবশ্যক।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ নামের তালিকা চূড়ান্ত করার ঠিক আগের দিন বিরোধী দলনেতার কাছে ২০০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরদিনই সার্চ কমিটি মাত্র ৬ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা পাঠায় এবং ওই একই দিনে সিলেকশন কমিটি জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধুর নাম চূড়ান্ত করে ফেলে। এই অস্বাভাবিক তড়িঘড়ি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সরাসরি অভিজ্ঞতার অভাব আইনের ৫ নম্বর ধারা স্পষ্ট করে বলে যে, নির্বাচন কমিশনার পদের প্রার্থীর সরাসরি নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। তবে মামলাকারীর দাবি, বর্তমান তিন শীর্ষ কর্তার কারও এই পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই:

  • জ্ঞানেশ কুমার: ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলালেও (যার মধ্যে এর্নাকুলামের জেলাশাসক পদ অন্তর্ভুক্ত), জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা পর্যবেক্ষক হিসেবে সরাসরি ভোট পরিচালনার কোনো রেকর্ড তাঁর নেই।
  • সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী: উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যসচিব সুখবীর সিং সান্ধু এবং হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যসচিব ও জনগণনা কমিশনার বিবেক জোশীর ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ উঠে এসেছে।

নথি গোত্র গোপন ও শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপের আর্জি আদালতে পেশ করা আবেদন অনুযায়ী, এই তিন আধিকারিক ঠিক কোন আইনি অধিকারে এই পদে রয়েছেন, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক প্রমাণিত হলে এই পদগুলো শূন্য বলে ঘোষণা করার আবেদন করেছেন মামলাকারী। পাশাপাশি, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ও ২ অক্টোবর তথ্য অধিকার আইনে (RTI) আবেদনের পরেও সরকার কোনো নথিপত্র প্রদান করেনি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে মামলা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র যাতে অবিলম্বে আদালত নিজের হেফাজতে সুরক্ষিত রাখে, সেই মর্মে জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই নতুন আইনি লড়াই কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *