বাবা-ছেলে কেউ নয়! রিও ডি জেনেইরোর নির্বাচনে কি তবে পরিবর্তনের হাওয়া?
বার্তা ডেস্কঃ
ফ্রান্সের পর এবার লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেও ছড়িয়ে পড়ল তরুণ প্রজন্মের ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম দফার ফলাফলেই ব্রাজিলের ক্ষমতা বামপন্থী নেতৃত্বের হাত থেকে দক্ষিণপন্থী নেতৃত্বের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এই প্রেক্ষাপটেই রাজধানী রিও ডি জেনেইরোর কেন্দ্রস্থলে রাজপথে নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী।
সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া প্রথম দফার নির্বাচনে ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছেন সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। তিনি দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে কারাবন্দী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। অন্যদিকে, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ ভোট। কিন্তু নিয়মানুযায়ী এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট কোনো প্রার্থী না পাওয়ায় আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত নির্বাচন। এই নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
দক্ষিণপন্থী ভাবধারার এই বাড়বাড়ন্ত এবং ফ্লাভিও বলসোনারোর সম্ভাব্য জয় ব্রাজিলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপনিবেশে পরিণত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। রিও ডি জেনেইরোর রাস্তায় নামা প্রতিবাদকারীদের হাতে থাকা পোস্টার ও ব্যানারে লেখা ছিল— ‘বলসোনারোকে আর নয়’, ‘বাবাকেও চাই না, ছেলেকেও না’ এবং ‘স্বৈরাচার দূর হটুক’-এর মতো তীব্র প্রতিবাদী স্লোগান।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী সাহিত্য শিক্ষার্থী জোয়াও ভিক্টর ভিয়েরার মতে, ফ্লাভিও বলসোনারোর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতাদর্শের গভীর মিল রয়েছে। ২৫ বছর বয়সী এলিস কার্নেইরো জানান, গণতন্ত্র বাঁচাতেই তিনি রাজপথে নেমেছেন; কারণ দক্ষিণপন্থী সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের ভবিষ্যৎ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়তে পারে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ১৯ বছরের শিক্ষার্থী ইম্যানুয়েল আরাউজোর স্পষ্ট কথা, “দেশে ডানপন্থী মতাদর্শ এবং বলসোনারোবাদের বাড়বাড়ন্তে আমরা অতিষ্ঠ, এর দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর শাসনকাল থেকেই ব্রাজিলের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। ফ্লাভিও বলসোনারো কেবল তাঁর বাবার পূর্ণ সমর্থনই পাচ্ছেন না, বরং বাবাকে ক্ষমা করে দেওয়ার পক্ষেও প্রকাশ্যে সওয়াল করছেন— যা বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই তীব্র ভাবাদর্শের লড়াইয়ের মধ্যে এখন গোটা ব্রাজিলের নজর আগামী ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার ফলাফলের দিকে।