গঙ্গাকে আর ধ্বংস হতে দেব না, ১১ রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি!

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতের জাতীয় নদী গঙ্গার ধারাবাহিক অবক্ষয়, আশঙ্কাজনক দূষণ এবং প্লাবনভূমিতে ক্রমাগত বেআইনি দখলদারি নিয়ে উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গসহ ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নজিরবিহীন কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যগুলির উদাসীনতায় গঙ্গা নদী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকেই নিতে হবে।

“গঙ্গাকে ধ্বংস করেছেন, ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও আপনাদের” মামলার শুনানিকালে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে যে, ইতিপূর্বে গঙ্গার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ঘুমিয়ে ছিল এবং কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, “আপনারা গঙ্গাকে ইতিমধ্যেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এখন নদীটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং এর পরিবেশ রক্ষা করা আপনাদেরই পরম দায়িত্ব।”

গঙ্গার স্বাভাবিক গতিপথ ও প্লাবনভূমিতে যেকোনো প্রকার হস্তক্ষেপ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নদীর তীরে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ অবিলম্বে গুঁড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে বিহারে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সেখানকার বেআইনি দখল সরাতে ১২ সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় পার হলেই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে নোটিশ গঙ্গা নদীর অববাহিকা ও প্লাবনভূমির গুরুত্ব অনুধাবন করে সুপ্রিম কোর্ট দেশের ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছে। তালিকায় রয়েছে:

  • উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড
  • রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং দিল্লি

এই সমস্ত রাজ্যগুলোকে নিজ নিজ এলাকার গঙ্গা তীরবর্তী অবৈধ দখলদারি উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ধ্বংস এবং প্লাবনভূমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিশদ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ হলফনামা শুনানি চলাকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এবং জলশক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হলফনামা দাখিল করা হয়। কেন্দ্র আদালতকে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দা এবং ভাগীরথী নদী অববাহিকায় পূর্ব-অনুমোদিত ৭টি প্রজেক্ট ছাড়া নতুন কোনো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন বা পরিকল্পনাকে কেন্দ্র সরকার কোনোভাবেই সমর্থন করবে না। গঙ্গার অবিরত ও স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *