মৃত বাবার পরিচয় প্রমাণের জেরে নাগরিকত্ব হারানো? কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে তোলপাড়!
বার্তা ডেস্কঃ
বাংলাদেশি সন্দেহে এক ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ ও এফআরআরও (FRRO)-র ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য শুনানি চলাকালীন ১৯৭১ সালের সীমান্ত পারাপারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কেবল তাৎক্ষণিকভাবে মৃত বাবার প্রমাণ দিতে না পারলেই কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বলা যায় কি না। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আধার ও প্যান কার্ড বৈধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে আদালত চরম বিস্ময় প্রকাশ করে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ই অগস্ট রানিনগর থানার পুলিশ কর্তৃক ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং ১০ই অগস্ট ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানোর মাধ্যমে। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ভুয়ো নথির যুক্তিতে এই পদক্ষেপের সমর্থন করা হলেও, হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানায় যে কোনো ব্যক্তিকে নির্বাসিত বা আটকে রাখার আগে জাতীয়তা প্রমাণের যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। শেষ পর্যন্ত মামলাটির এক্তিয়ার অন্য এজলাসের অধীনে থাকায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এটি নির্দিষ্ট বেঞ্চে স্থানান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন।