রেজিনগরে ঐতিহাসিক জয় বিজেপির, ৭৬ হাজার ভোটে গুঁড়িয়ে গেল সব হিসাব!
বার্তা ডেস্কঃ
রেজিনগর: নন্দীগ্রাম আগেই পকেটে পুরেছিল বিজেপি। তবে রাজ্য রাজনীতির নজর ছিল ৭০ শতাংশেরও বেশি মুসলিম অধ্যুষিত মুর্শিদাবাদের রেজিনগর কেন্দ্রটির দিকে। গত মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের দিন থেকেই পুলিশি মদতে ভোটলুটের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল সমস্ত বিরোধী দল। শুক্রবার ভোটগণনা শেষে বিরোধীদের সেই সব অভিযোগকে পেছনে ফেলে রেজিনগরে ঘাসফুল ও হাত শিবিরকে উড়িয়ে বিশাল জয় ছিনিয়ে নিল শাসকদল বিজেপি। ফলতার সব রেকর্ড ভেঙে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি রেজিনগরেও প্রায় ৭৬ হাজার ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার।
ভোটের প্রাপ্ত পরিসংখ্যান রেজিনগর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭২৪টি ভোট। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গোলাম নবি আজাদকে ৭৫ হাজার ৬৯১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। গোলাম নবি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৩৩টি ভোট। অন্যদিকে, মাত্র ৬,১৪৬টি ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিটকে গেছে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী ৩,৮৩৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে এবং সিপিএম প্রার্থী ৩,৭৮১ ভোট পেয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছেন। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পেয়েছেন ২০৪০টি ভোট।
‘ভীতি দূর করে উন্নয়নের পাশে সংখ্যালঘু সমাজ’: মুখ্যমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক ফলাফলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের এই রায় প্রমাণ করে দিয়েছে যে সংখ্যালঘু মুসলিমদের একটি বড় অংশই এখন বিজেপির ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের ওপর আস্থা রাখছে। তিনি বলেন, “এতদিন সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানো হতো—বিজেপি ক্ষমতায় এলে নাকি তাঁদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে বা ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হবে। কিন্তু গত পাঁচ মাসে আমাদের সরকারের কাজ দেখে সাধারণ মানুষ বুঝেছেন যে তাঁদের ভুল বোঝানো হয়েছিল।” শুভেন্দু আরও যোগ করেন, “বাঙালি মুসলিমদের বড় অংশই রাজ্য সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে চাইছেন। আগামী দিনে আমরা ৬০ শতাংশ ভোট পাব। এ বছর হাওড়া-কলকাতা পুরসভা, আগামী বছর ১১০টি পুরসভা, ২০২৮-এর পঞ্চায়েত এবং ২০২৯ সালে ৪২টির মধ্যে ৪২টি আসনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উপহার দিয়ে রাষ্ট্রবাদী সরকারের বৃত্ত সম্পূর্ণ করা হবে।”
বিরোধীদের ‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’ ও ১০৯ নম্বর বুথের বিতর্ক ভোটগ্রহণের দিনে রেজিনগরে বড় ধরনের রক্তপাত বা বোমাবাজি না হলেও বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন জুড়ে চলেছে ‘নিঃশব্দ সন্ত্রাস’। সাধারণ ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া, বুথে প্রবেশের আগেই আঙুলে কালি লাগিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা।
ভোটগণনা চলাকালীন ১০৯ নম্বর বুথ ঘিরে এক বড় বিতর্ক দানা বাঁধে। কংগ্রেসের পাশাপাশি মমতা-তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলেন, ৭৭২ জন মোট ভোটারের বুথে বিজেপি পেয়েছে ৯০৯টি ভোট! এই নির্বাচনী পাটিগণিত নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের একটি সূত্র এবং বিজয়ী প্রার্থী শাখারভ সরকার এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কমিশন সূত্রের খবর, ওই বুথে মোট ভোটারের সংখ্যা এক হাজারের বেশি ছিল।
জয়ের পর নিজের কৃতিত্ব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে উৎসর্গ করে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বলেন, “এই জয় আমার নয়, গোটা রেজিনগরবাসীর। জয়ের প্রকৃত কারিগর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।”