অষ্টমীতে ৬৪ যোগিনীর অদ্ভুত আরাধনা, ২৭৯ বছরের এই ঐতিহাসিক পুজোর রহস্য জানলে চমকে যাবেন!
বার্তা ডেস্কঃ
উত্তর ২৪ পরগনার ইছাপুর নবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ভট্টাচার্য বাড়ির দুর্গাপুজো এবার ২৭৯ বছরে পদার্পণ করল। ১৭৪৭ সালে পণ্ডিত রামচন্দ্র তর্কালঙ্কার গঙ্গার তীরে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন, যা আজ ১৩তম প্রজন্মে পৌঁছেছে। তন্ত্রমতে আয়োজিত এই পুজোর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মহাঅষ্টমীতে মা দুর্গার পাশাপাশি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে ৬৪ যোগিনীর আরাধনা করা হয়। বেলতলায় থাকা শিবলিঙ্গকে মা দুর্গারূপে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে পুজো করে দ্বিতীয়ায় মণ্ডপে আরাধনা শুরু হয়। সোনার গয়নায় সেজে ওঠা উমাকে পরিবারের তরফে কন্যাসমেত ঘরের মেয়ে হিসেবেই আবাহন জানানো হয়।
বংশপরম্পরায় চলে আসা নিয়ম অনুযায়ী, অষ্টমীতে ৬৪ যোগিনীকে অড়হর ডালের খিচুড়ি, পোস্ত, শুক্তো ও পায়েস সহ নানা পদে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়। তবে এই প্রসাদ বাইরের কেউ পান না, কেবল পরিবারের বিধবা মহিলারাই তা গ্রহণের অধিকারী। সপ্তমী থেকে নবমী অন্নভোগের সাথে পাঁঠাবলি এবং দশমীতে ফলবলির পর দেবীকে পান্তা ভোগ নিবেদন করা হয়। বর্তমানে ২৯টি শরিক মিলে এই সুপ্রাচীন পুজোর আয়োজন করেন। ব্রাহ্মণ পরিবার হলেও নিজেদের হাতে পুজো না করে পুরোহিত ডেকেই সমস্ত নিয়মকানুন নিখুঁতভাবে পালন করা ভট্টাচার্য বাড়ির বহু বছরের ঐতিহ্য।