দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত সিজেপি, মমতাকে নিশানা করে গর্জে উঠলেন অগ্নিমিত্রা!

বার্তা ডেস্কঃ

নয়া দিল্লি ও কলকাতা: দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র বিক্ষোভ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাত চরম রূপ নিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সরাসরি অভিযোগ— CJP-র এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং উন্নয়নের গতিকে স্তব্ধ করে দেওয়া।

বিক্ষোভকারীদের আচরণকে ‘দেশবিরোধী’ বলে তোপ দেগে শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ওরা যা করছে তা সম্পূর্ণভাবে দেশের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ জুড়ে যে উন্নয়নের ধারা চলছে, কোনো না কোনো অজুহাতে তা ব্যাহত করাই এদের মূল কাজ।”

বাম ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির যোগসাজশের অভিযোগ: আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে অগ্নিমিত্রা দাবি করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি বামপন্থী দলগুলো এবং CJP-কে সরাসরি মদত দিচ্ছে। তবে তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ওপরেই আস্থা রাখছেন।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল CJP।

মমতার সমর্থন ও দিল্লিতে নাটকীয় আটক: অন্যদিকে, CJP-র এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে দিল্লিতে ধর্নায় বসেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ধর্নামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও প্রতিমা মণ্ডল।

ধর্না প্রদর্শন চলাকালীন দিল্লি পুলিশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে আটক করে। অবশ্য শনিবার সন্ধ্যায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি থেকে কলকাতা— রাজনৈতিক উত্তাপ একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। একদিকে বিজেপির ‘দেশবিরোধী’ অভিযোগ, আর অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *