ছুটির দিনেও খুলল সুপ্রিম কোর্টের দরজা, বড় রায়ের অপেক্ষায় কি দিল্লি!

বার্তা ডেস্কঃ

বিক্ষোভ দমনের নামে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারে ঠিক কতখানি কোপ বসানো যায়? এই জটিল ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নটিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দিল্লির সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, ট্রেন ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত করা এবং বিরোধী নেতাদের নির্বিচারে আটকের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে ছুটির দিন রবিবারেই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করল সুপ্রিম কোর্ট।

রবিবারের বিশেষ শুনানি ও আইনি সংঘাত গত ১০ অক্টোবর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে এক বিশাল বিক্ষোভ ও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে এই আইনি লড়াই। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP), বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ছাত্র সংগঠনের ওই বিক্ষোভ মোকাবিলায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল প্রশাসন।

এর বিরুদ্ধে আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি আদালত অবমাননার আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর মূল অভিযোগ, গত ৯ অক্টোবরের শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, নিরাপত্তার কথা ভেবে মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না রেখে প্রয়োজনে আংশিক নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। অথচ তার পরের দিনই বিক্ষোভের জেরে দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় এবং বহু ট্রেন বাতিল করা হয়, যা আদালতের আগের নির্দেশিকাকে সরাসরি লঙ্ঘন করেছে।

শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ও নেতাদের আটকের বৈধতা শুধু গণপরিবহণ বন্ধ রাখাই নয়, শনিবারের এই বিক্ষোভের সময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের নির্বিচারে আটক করার ঘটনাকেও কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বিশিষ্ট আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ মেনকা গুরুস্বামীর তরফে একটি পৃথক আবেদন দায়ের করা হয়েছে। ওই আবেদনে চার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ দেশের একাধিক বিরোধী নেতাকে যেভাবে আটক বা গৃহবন্দি করা হয়েছে, তার বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আবেদনকারীদের বক্তব্য, সাংবিধানিক নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রাস্তায় আটকে দেওয়া কিংবা বিরোধীদের বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই পুলিশি পদক্ষেপ কোনোভাবেই আইনসম্মত হতে পারে না। প্রতিরোধমূলক আটকের নামে এই দমনপীড়ন কতটা যুক্তিযুক্ত, তা খতিয়ে দেখতেই আদালতের জরুরি হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

আদালতের আগের নির্দেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি এর আগে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি হয়েছিল। সেখানে নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মামলাকারীদের সাফ দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও প্রশাসন তা মানেনি, যার ফলে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

আজ রবিবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি শুরু হয়েছে। একদিকে আদালতের আগের নির্দেশ অমান্য করে মেট্রো ও রেল পরিষেবা কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতা ও বিক্ষোভকারীদের আটকের সাংবিধানিক বৈধতা—এই দুই হাই-ভোল্টেজ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *