দিল্লির অচলাবস্থা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তোলপাড়, পুলিশি রাজত্বে ক্ষুব্ধ আইনজীবীরা!
বার্তা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র (CJP) আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠল প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ তুলে আইনজীবী ত্রিপাঠী এবং মেনকা গুরুস্বামী সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করেছেন। আর এই মামলার শুনানির জন্যই ছুটির দিনে বিশেষ বেঞ্চ বসাল সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানিপর্বে উপস্থিত ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সরকারের তরফ থেকে জারি করা কঠোর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। সওয়াল করতে গিয়ে তিনি বলেন, “ট্রেন থেকে মানুষজনকে নামিয়ে নেওয়া হচ্ছে, চার কিলোমিটার দূর থেকেও লোকজনকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নিষেধাজ্ঞা চলছে। শুধু তাই নয়, ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। এটি সরাসরি আদালতের নির্দেশ অমান্য করার শামিল।”
পাশাপাশি, আইনজীবীদের হেনস্তা ও আটকের তীব্র নিন্দা করে এক আইনজীবী ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “রাজ্য জুড়ে যেন পুলিশ রাজ চলছে। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার সুপ্রিম কোর্টকেই রক্ষা করতে হবে।”
সিজেপির আন্দোলন ও বর্তমান পরিস্থিতি শনিবার যন্তর-মন্তরের বিক্ষোভে আটক করা প্রায় তিন হাজার আন্দোলনকারীর বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন সিজেপি-র শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপ, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থামার কোনো লক্ষণ নেই।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়ে রবিবার ফের যন্তর-মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছে সিজেপি। বর্তমানে দলটির দায়িত্বে থাকা অজিঙ্ক শিন্দে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। ফলে ছুটির দিনেও রাজধানীর রাজপথ এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্দরমহল— উভয় জায়গাতেই রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই এখন চরমে উঠেছে।