যন্তর মন্তরে কেন মিলল না অনুমতি, বড় পদক্ষেপ পুলিশের!
বার্তা ডেস্কঃ
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দু’দিন ধরে উত্তপ্ত রয়েছে দিল্লি। ব্যাপক ধরপাকড় ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই এবার এই বিষয়ে মুখ খুলল দিল্লি পুলিশ। কেন যন্তর মন্তরে তাঁদের প্রতিবাদ বা ধর্নায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি, রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তার বিস্তারিত কারণ ব্যাখ্যা করেন দিল্লির ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) নেহা যাদব।
পুলিশ প্রশাসনের স্পষ্ট দাবি, অতীতে সিজেপি-র আন্দোলনের রেকর্ড মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। নিয়মভঙ্গের বহু অভিযোগ থাকায় প্রশাসন আর কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ডিসি নেহা যাদব জানান, এর আগে গত জুলাই মাসেও যন্তর মন্তরে সিজেপি-কে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ তারা সঠিকভাবে ব্যবহার করেনি। পুলিশের অভিযোগ, সেই সময় সংগঠনের নেতা-সমর্থকরা প্রশাসনিক নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিলেন। শুধু তাই নয়, গতবারের সেই জমায়েত থেকে পুলিশের উপর পাথর ছোঁড়া হয়েছিল এবং হামলার উদ্দেশ্যে অস্ত্রও নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ। যার ফলে সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, অতীতে নিয়ম না মানার এই সমস্ত স্পষ্ট নজির এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার সিজেপি-কে নতুন করে ধর্না বা বিক্ষোভ দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, বর্তমানে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ধারা ১৩৩ জারি রয়েছে। ফলস্বরূপ, পুলিশের অনুমতি ছাড়া রাজধানীর এই সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে যে কোনওরকম জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শন সম্পূর্ণ বেআইনি।
সিজেপি-র শীর্ষনেতাদের আটক করার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানান যে, ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা— অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস গত ১০ অক্টোবর জনপথ এলাকায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। যেহেতু ওই নির্দিষ্ট কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের কোনও আইনি অনুমোদন ছিল না, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং জনস্বার্থেই পুলিশ বাধ্য হয়ে তাঁদের আটক করে। দিল্লির নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সাংবাদিক বৈঠকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বুঝিয়ে দেয় দিল্লি পুলিশ।
উল্লেখ্য, শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান থেকে দিপকে-সহ তিন ‘ককরোচ’ নেতাকে আটক করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। যদিও রবিবার দিল্লির আদালত তিনজনকে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে।
জানা গেছে, ৫০ হাজার টাকার বন্ড এবং আগামী এক বছর অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনও কাজে জড়ানো যাবে না— এই শর্তেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁদের। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চলবে এবং আগামী দিনে তা আরও বড় আকার ধারণ করবে।