কাঁটাতার ভুলে রবীন্দ্র-অসম্মান রুখে দিলেন অচেনা রিকশাচালক!

বার্তা ডেস্কঃ

ঢাকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম তিনি শুনেছেন। কিন্তু কোনোদিন তাঁর লেখা বা কবিতা পড়ার সুযোগ হয়নি। তবুও ঢাকার এক সাধারণ রিকশাচালকের মন থেকে ভেসে এল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার সহজ অনুভুতি— ‘কবি মানুষ, কবিদের অপমান করতে নেই!’ তাই কোনো জটিল সমীকরণ বা বিতর্কের তোয়াক্কা না করে, নিজের হাতে জল ঢেলে রগড়ে রগড়ে দেওয়ালচিত্রের রবীন্দ্রনাথের মুখের কালি মুছে দিলেন তিনি। যেন পরম মমতায় এক লহমায় মুছে দিলেন সব কলঙ্ক।

ঘটনাটি ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ শিল্পকলা অ্যাকাডেমির সামনের। সম্প্রতি একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে (যদিও ভিডিয়োটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পরনে লুঙ্গি আর গেঞ্জি পরা এক রিকশাচালক হাতে একটি সাদা ড্রাম থেকে জল নিয়ে দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি পরিষ্কার করছেন।

তাঁর এই কাজ দেখে চারপাশে সাংবাদিক ও কৌতুহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। ক্যামেরা ও মাইক হাতে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, “কার ছবি পরিষ্কার করছেন জানেন?”

খোঁচা খোঁচা দাড়ির ফাঁক দিয়ে অমায়িক এক হাসি হেসে রিকশাচালক উত্তর দেন, “কবি মানুষ। ভালো লোক।” সাংবাদিকেরা ফের প্রশ্ন তোলেন, “কোন দেশের লোক? বাংলাদেশের না অন্য দেশের?” ভৌগোলিক সীমানা আর কাঁটাতারের বিভাজনে কবিকে বাঁধার চেষ্টা করা হলেও, সহজ-সরল রিকশাচালকের তাতে বিন্দুমাত্র ভাবান্তর হয়নি। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “এই দেশেরই তো!” সাংবাদিক যখন তাঁকে ভুল শুধরে দিয়ে বলেন যে তিনি অন্য দেশের, রিকশাচালক মুচকি হেসে জানান, “ওহ, অত আমি জানি না।”

এরই মধ্যে ভিড়ের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁকে তাড়া দেয় এবং সেখান থেকে চলে যেতে বলে। সাংবাদিকেরা তাঁর পিছু নিয়ে জানতে চান, তিনি কি নিজের ইচ্ছেতেই কালি মুছেছেন? প্রথমে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, এমনিই জল দিয়ে মুছে দিলাম।” তবে পরক্ষণেই কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যোগ করেন, “স্যারেরা বললেন।” ততক্ষণে পুলিশ এসে বাঁশি বাজিয়ে ভিড় সামলাতে শুরু করে এবং তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে তার আগেই কবিগুরুর ছবি থেকে কালি পুরোপুরি উঠে গেছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ফুটপাথ দখলমুক্ত করার পর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও সত্যজিৎ রায়সহ ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকে। কিন্তু ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি গোষ্ঠী বিদ্যাসাগর বা সত্যজিৎ রায়কে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে আপত্তি তোলে। এরপরই এক তরুণী রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপে দেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *