‘উনি মদ ছাড়া চলেন না!’ থানায় ঢোকার মুখে কল্যাণকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ!
বার্তা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে করা এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শান্তিপুর। এই রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে রবিবার শান্তিপুর থানায় হাজিরা দিতে আসেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর থানা থেকে তাঁর বের হওয়াকে কেন্দ্র করে বাইরে চরম হট্টগোল ও তুলকালাম কাণ্ড ঘটে যায়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: সম্প্রতি শান্তিপুরের উপ-নির্বাচনের ঠিক আগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর বাড়িতে একটি দলীয় কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ধরনের মন্তব্যকে অত্যন্ত অবমাননাকর ও আপত্তিকর বলে দাবি করে বিজেপি। এর পরেই শান্তিপুর থানায় কল্যাণের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশের পাঠানো নোটিশে সাড়া দিয়েই রবিবার শান্তিপুর থানায় হাজির হন এই তৃণমূল সাংসদ। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “শান্তিপুর থানা থেকে একটা নোটিশ পেয়েছিলাম, তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে হাজিরা দিতে এসেছিলাম।”
থানার বাইরে চরম বিক্ষোভ ও স্লোগান: তবে মূল নাটক শুরু হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থানা থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়। তাঁকে দেখা মাত্রই বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে ‘মাতাল… মাতাল…’ বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন।
স্থানীয় বিজেপি যুব মোর্চার নেতা নিকুঞ্জ দত্ত এই বিষয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “উনি মদ ছাড়া চলেন না, উনি একজন মাতাল! উনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করেছেন। আগে জানলে এলাকার সব মদের দোকান বন্ধ করিয়ে রাখতাম।” হঠাৎ এই বিক্ষোভ ও স্লোগানের জেরে শান্তিপুর থানার সামনে তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, পুলিশ দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।