চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের ভাগ্য বদল, এবার কি পরীক্ষায় বসতে হবে?
বার্তা ডেস্কঃ
সরকারি দফতরে রয়েছেন ঠিকই, কিন্তু নেই নির্দিষ্ট কোনো পদ কিংবা দায়িত্ব—চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মীদের এই অচলাবস্থা কাটাতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবার কর্মীদের দক্ষতা মেপে সঠিক স্থানে কাজে লাগাতে বিশেষ পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে পারবেন, মিলবে পদোন্নতি।
আর যারা এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাদের জন্য থাকবে ভিন্ন দফতরের বিকল্প ব্যবস্থা।
কেন এই নতুন উদ্যোগ? বর্তমানে সরকারি দপ্তরের বহু গ্রুপ-ডি কর্মীর উচ্চতর যোগ্যতা রয়েছে, যারা অনায়াসেই গ্রুপ-সি পদের কাজ সামলাতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি আটকে থাকায় তাদের এই যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছিল না। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের পদোন্নতি ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজের গতি এবং জনসেবার মানও অনেক বাড়বে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি বিশেষ খসড়া প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।
সমস্যাটা কোথায় ছিল? বর্তমানে সেচ ও জলসম্পদ দফতরে প্রায় ৩,২০০ জন চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী কর্মরত আছেন। তাদের একটি বড় অংশ নিজ বাড়ির কাছের দফতরে কাজ করার সুবিধা পাচ্ছিলেন। এর ফলে কলকাতা ও জেলা সদরের অফিসগুলোতে কর্মীর সংখ্যা অতিরিক্ত হলেও সঠিক দায়িত্বের অভাবে তাদের থেকে কাজ নেওয়া যাচ্ছিল না।
কীভাবে হবে নির্বাচন ও নিয়োগ? নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী:
- যোগ্যতা: যেসব কর্মী অন্তত মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তারা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
- পরীক্ষার ধরন: মোট নম্বরের ৭৫% থাকবে স্ক্রিনিং টেস্টের ওপর এবং ২৫% থাকবে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা)-র ওপর।
- পদোন্নতি: মেধা তালিকা ও শূন্যপদের ভিত্তিতে সফল কর্মীদের ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট, লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC) বা কম্পিউটার অপারেটরের মতো ঘাটতি থাকা গ্রুপ-সি পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে।
যারা উত্তীর্ণ হতে পারবেন না, তাদের কী হবে? পরীক্ষায় যারা পিছিয়ে পড়বেন, তাদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। তাদের জন্য বরকন্দাজ, রেকর্ড কিপার, পিওন, চৌকিদার, নাইট গার্ড, খালাসি কিংবা পাম্প অপারেটরের মতো সম্মানজনক পদে কাজের সুব্যবস্থা রাখা হবে। শুধু তা-ই নয়, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্টের সুবিধা থাকবে এবং তাদের বাড়ির কাছাকাছি দফতরেই নিয়োগ বজায় রাখা হবে।