ভোট চুরির অভিযোগে তোলপাড় দিল্লি, মোদী সরকারকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে মরিয়া ‘ইন্ডি’ জোট!

বার্তা ডেস্কঃ

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ে নামল বিরোধী দলগুলি। ভোটার তালিকায় ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং সরাসরি ‘ভোট চুরি’র গুরুতর অভিযোগ তুলে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বিরোধী শিবিরের এই পদক্ষেপে এখন চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের দৈনন্দিন রেজিস্ট্রি কাউন্টার বন্ধ হওয়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে এই হাই-প্রোফাইল রিট পিটিশনটি জমা দেওয়া হয়। আদালতের সরকারি খাতায় মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম জাতীয় নির্বাচন কমিশন’ নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

রাজপথের বিক্ষোভ থেকে আদালতের আঙিনায়

সোমবার দুপুরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এই মিছিলে কংগ্রেসের পাশাপাশি জোটের অন্যান্য দলগুলির শীর্ষ নেতারাও শামিল হন।

প্রাথমিকভাবে বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আদালতের পরামর্শ মেনে শেষ পর্যন্ত সরাসরি মামলা দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলায় ঠিক কী কী দাবি জানানো হয়েছে?

আদালতে জমা দেওয়া আর্জির সমস্ত বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে না এলেও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিরোধীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:

  • SIR প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত: নির্বাচন কমিশনের বাস্তবায়িত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়ায় কী কী কারচুপি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
  • ভোটার তালিকার তথ্য তলব: ইসিআই-নেট (ECI-Net) পোর্টাল ও অনলাইন ভোটার রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পাশাপাশি কমিশনের সমস্ত স্পর্শকাতর নথি তলব করার দাবি জানানো হয়েছে।
  • অন্যায়ভাবে নাম বাদ দেওয়া বন্ধ করা: ভোটার তালিকা থেকে ঢালাও নাম বাদ পড়ার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তা প্রতিরোধে সুপ্রিম কোর্টকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে জল্পনা

আদালতের রেজিস্ট্রি বন্ধ হওয়ার ঠিক মুখে এই হাই-প্রোফাইল আইনি পদক্ষেপ দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিরোধী জোটের এই সর্বাত্মক আক্রমণের পর সর্বোচ্চ আদালত পরবর্তী শুনানিতে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর পুরো দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *