কাজের সুযোগ বাড়লেও মেলেনি বেতন, ভারতীয় মহিলাদের শ্রমে লুকানো সত্যিটা ঠিক কতটা ভয়াবহ?

বার্তা ডেস্কঃ

ভারতে মহিলাদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ২০১৭-১৮ সালের ২৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩-২৪ সালে ৪১.৭ শতাংশে পৌঁছেছে। প্রথম দর্শনে এটি এক অভাবনীয় অগ্রগতি মনে হলেও, আসল চিত্রটি অত্যন্ত জটিল। এই বৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে ‘স্বনিযুক্তি’ এবং পরিবারের ব্যবসায় ‘অবৈতনিক সহায়ক’ হিসেবে কাজ করা থেকে; যেখানে গ্রামীণ ভারতের ৪২.৩ শতাংশ কর্মরত মহিলা যুক্ত থাকলেও তাঁরা সরাসরি কোনো পারিশ্রমিক পান না। উল্টে একই সময়ে নিয়মিত বেতনযুক্ত চাকরি ও দিনমজুরিতে মহিলাদের কাজের অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সরকারের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মূলত মহিলাদের আগে থেকেই করা অবৈতনিক কাজগুলোকে গণনার আওতায় এনেছে, যার ফলে বাস্তবে উপার্জনের সুযোগ না বাড়লেও কাগজে-কলমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে।

টাইম ইউজ সার্ভে অনুযায়ী, মহিলারা প্রতিদিন গড়ে ৩০৫ মিনিট অবৈতনিক গৃহস্থালি ও পরিচর্যার কাজ করেন, যেখানে পুরুষরা দেন মাত্র ১৬৩ মিনিট। তা ছাড়া মাত্র ২৫ শতাংশ মহিলা স্ববেতনে সরাসরি যুক্ত, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ। উপযুক্ত চাকরির অভাব, নিরাপত্তার উদ্বেগ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে বাধ্য হয়েই অনেককে স্বনিযুক্তির পথ বেছে নিতে হচ্ছে। এই ধরনের কাজ থেকে আয় নগণ্য হওয়ায় এটিকে সাফল্য বলে উদযাপন করার কোনো সুযোগ নেই। আসল বিষয় হলো, কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে নারীদের উন্নয়ন মাপা আসাম্ভব; তাঁরা নিজেদের কাজের বিনিময়ে সরাসরি স্বাধীন পারিশ্রমিক, উপযুক্ত স্বীকৃতি এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা পাচ্ছেন কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *