পুজোর ভিড় সামলাতে রাস্তায় ৩২ হাজার রক্ষী! বাড়তি সতর্কতায় লালবাজার।
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজো শুরু হতেই কলকাতার রাজপথে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়। বড় বড় পুজো মণ্ডপ তো বটেই, তার সঙ্গে গড়িয়াহাট, ধর্মতলা, নিউ মার্কেট ও হাতিবাগানের মতো প্রধান বাজারগুলিতেও উপচে পড়ছে ক্রেতাদের ঢল। আর এই ব্যাপক ভিড়ের জেরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবার অত্যন্ত কঠোর ও বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করল লালবাজারের কলকাতা পুলিশ। চতুর্থী থেকেই শহরের নিরাপত্তায় নেমে পড়েছেন হাজার হাজার পুলিশকর্মী ও হোমগার্ড।
পুজোর নিরাপত্তায় বিশাল পুলিশ বাহিনী
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার চতুর্থী থেকেই শহরবাসীর সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ১২ হাজার পুলিশকর্মী এবং ২০ হাজার অস্থায়ী হোমগার্ড। পাশাপাশি, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে রাস্তায় নেমেছেন আরও ৬ হাজার ট্রাফিক পুলিশকর্মী এবং ৬ হাজার অস্থায়ী ট্রাফিক হোমগার্ড।
যানজট এড়াতে লালবাজারের বিশেষ নির্দেশিকা
পুজোর দিনগুলিতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে মঙ্গলবার ট্রাফিক আধিকারিকদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন লালবাজারের শীর্ষ পুলিশকর্তারা। ওই বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
- বাইপাস সহ শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ arterie-গুলিতে নজরদারি বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।
- হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো এবং বাইকে তিনজন করে যাতায়াতের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় নেওয়া হচ্ছে কড়া আইনি পদক্ষেপ।
- মা ফ্লাইওভারে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং যানজটের সমস্যা মেটাতে মাঝপথে গাড়ি বিকল হলে ছোট ক্রেনের সাহায্যে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
শহরের পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, পুজোর সময় অন্যান্য জেলা ও রাজ্য থেকেও প্রচুর মানুষ কলকাতায় আসেন। রাস্তা পারাপার এবং গাড়ি চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় না থাকলে যানজট বৃদ্ধি পায়। তবে পুলিশি তৎপরতায় খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।
শপিং মল ও বাজারের ভিড়
বর্তমানে গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেট, ধর্মতলা, হাতিবাগান ও শ্যামবাজারের পাশাপাশি যাদবপুর, কসবা, পার্ক সার্কাস এবং উত্তর কলকাতার বিভিন্ন শপিং মলের আশেপাশের অঞ্চলেও তিল ধারণের জায়গা নেই। এর উপর বিকেলের দিকে অফিসফেরত মানুষের ভিড় যোগ হওয়ায় যান চলাচল আরও শ্লথ হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে কড়া নজরদারি চালাচ্ছেন ট্রাফিক আধিকারিকরা, যাতে পুজোয় সাধারণ মানুষের আনন্দ কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়।