উৎসবের দিনেও একা পার্থ, মমতার পুরনো সৈনিকদের দূরত্বে কেন বাড়ছে গুঞ্জন!
বার্তা ডেস্কঃ
দুর্গাপুজোর আনন্দঘন পরিবেশের মাঝেও এবার সম্পূর্ণ আলাদা এক ছবির সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। জেলফেরত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়—তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের হেভিওয়েট ও প্রতিষ্ঠাকালীন নেতারা উৎসবের মরশুমে কার্যত ঘরবন্দি বা নিঃসঙ্গ। নাকতলার বাড়িতেই কাটছে পার্থর পুজো, আর দমদমের পুজোয় বিজেপির হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তিনি দিল্লি পাড়ি দিয়েছেন সৌগত রায়। সুব্রত বক্সি অসুস্থতার কারণে ঘরমুখী, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এবার একটি পুজোতেও নিজে ফিতে না কেটে দুই খুদেকে দিয়ে উদ্বোধনের দায়িত্ব সেরেছেন। দল গঠনের প্রাথমিক দিনে কালীঘাটের যে চারজন শপথ নিয়েছিলেন, সেই ঐক্যের ছবি আজ অতীত।
তৃণমূলের অন্দরের এই পালাবদল ও উৎসবের জৌলুস হারানোর নেপথ্যে রয়েছে চরম রাজনৈতিক সংকট এবং পারস্পরিক দূরত্বের আবহ। একসময়ের ঘনিষ্ঠ সতীর্থ মুকুল রায়কে গভীরভাবে মিস করছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, যাঁর মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে সঠিক নির্দেশনার অভাব রয়েছে। অরূপ বিশ্বাস বা ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েটদের চেনা বলয় থেকেও এবার আগের মতো তারকাসুলভ দীপ্তি দেখা যাচ্ছে না। হাজরা পার্কের পুজো ও অষ্টমীর সন্ধ্যারতিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় কিছুটা সক্রিয় থাকলেও সামগ্রিক চিত্রটি কোণঠাসা নেতৃত্বের আক্ষেপেই মোড়া। উৎসবের আলোয় মোড়া পুজো পরিক্রমার ভিড়ে তৃণমূলের এই পুরনো সৈনিকদের বিচ্ছিন্নতা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।