ভোটের পরেও উত্তপ্ত ফলতা! আবারো মুখমুখি দাবাং অজয়পাল শর্মা ও পুষ্পা জাহাঙ্গির খান

নির্বাচন মিটলেও অশান্তির বিরাম নেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায়। বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শনিবার ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল এই বিধানসভা কেন্দ্রের হাশিমনগর এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছান ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মা। ঘটনাস্থলে হাজির হন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডাও।
জাতীয় সড়ক অবরোধ ও বিজেপির অভিযোগ
হাশিমনগর এলাকার বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের দিন তাঁদের বুথে গিয়ে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদ করায় স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ব্যাপক মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে এদিন ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে হেভিওয়েট উপস্থিতি
খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে হাজির হন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। দুই বিবদমান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর উপস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এলাকায় পৌঁছায় ফলতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মা নিজে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বাস দেন।
৩২টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ফলতার অন্তত ৩২টি বুথে বড়সড় কারচুপি হয়েছে, তাই সেখানে নতুন করে ভোট গ্রহণ করতে হবে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল শিবির। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি ইসরাফিল সরদারের দাবি, এই গন্ডগোলের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এটি সম্পূর্ণ সাজানো ঘটনা। উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা এলাকাটি শুরু থেকেই কমিশনের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
পুলিশ এবং পর্যবেক্ষকের দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা এবং সুরক্ষার আশ্বাসের পর অবশেষে অবরোধ তুলে নেয় বিজেপি। বর্তমানে হাশিমনগর এলাকায় পুলিশি টহল চলছে। তবে ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে ফলতার রাজনৈতিক পারদ যে যথেষ্ট চড়া, তা আজকের এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।