ইভিএমে আঠা থেকে বিহারের ফুটেজ! ফলতায় বেনজির পুনর্নির্বাচনের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র ৩৬ ঘণ্টা আগে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের (Repoll) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মে এই কেন্দ্রে পুনরায় ভোট হবে এবং ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৪ মে। বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিলের এমন ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে কার্যত বিরল।
কমিশনের নজরে ‘ফুটেজ কেলেঙ্কারি’ ও বিহারের যোগসূত্র
কমিশনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে উঠে এসেছে সাংঘাতিক কিছু অনিয়মের তথ্য। স্ক্রুটিনি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে:
- বিকৃত ফুটেজ: রিটার্নিং অফিসারের জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজের চিপের অনেকগুলোই ছিল ফাঁকা।
- বিহারের ভিডিও: সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ফলতার বুথের ফুটেজ হিসেবে জমা দেওয়া রেকর্ডিংয়ে বিহারের কোনো বুথের ভোটের ছবি মিলেছে। কমিশনের ধারণা, পরিকল্পনামাফিক সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে আসল ফুটেজ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- ইভিএম কারচুপি: অন্তত ৩৪টি বুথে ইভিএমের বোতামে ব্ল্যাকটেপ বা আঠা লাগানোর প্রমাণ মিলেছে। এই কারচুপি ধরার আগেই সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে প্রায় ৫৮ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছিল।
- অবাঞ্ছিত জমায়েত: ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বুথের ভেতরে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের বেআইনি উপস্থিতি এবং ইভিএম কাউন্টারে একাধিক ব্যক্তির একসঙ্গে প্রবেশ।
ব্যর্থতার দায়ে রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষক
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার ও জেনারেল অবজার্ভার কেবল প্রিসাইডিং অফিসারদের নোটের ওপর ভরসা করেছিলেন, বাস্তব পরিস্থিতি বা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেননি। এমনকি অভিযোগকারী প্রার্থীদের না ডেকেই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া সারা হয়েছিল। যেহেতু কেন্দ্রের ২১ শতাংশ বুথ ও প্রায় ২৩ শতাংশ ভোটার সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন, তাই জনমতের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো ভোট বাতিলের পথে হাঁটল কমিশন।
হাসিমনগরে উত্তেজনা ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
শনিবার রাতে এই ঘোষণা আসার আগে থেকেই ফলতার হাসিমনগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের একাংশ অভিযোগ করেন, ভোট দেওয়ার অপরাধে তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চাকদার তাঁদের গ্রাম ছাড়ার হুমকি দিচ্ছেন। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান জানিয়েছেন, “আইন আইনের পথেই চলবে।” অন্যদিকে, শনিবার ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিমের ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে মিটেছে, যেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ৪ মে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ হলেও, ফলতার রায় জানতে আপাতত ২৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।