‘রাত ২টো বাজলেও কেন্দ্র ছাড়বেন না’, গণনার আগে ইভিএম কারচুপি রুখতে মমতা-অভিষেকের একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
আগামীকাল বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের মহাগণনা। বুথফেরত সমীক্ষাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে ‘২০০ পার’-এর আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গেল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। শনিবার দলের প্রার্থী ও কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “জিতছি আমরা, জিতব আমরা! কাউন্টিং-হলে খেলা হবে।” পাশাপাশি গণনার দিন ইভিএম কারচুপি রুখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা বেঁধে দিয়েছেন ঘাসফুল শীর্ষ নেতৃত্ব।
রাত জাগার নিদান ও ইভিএম পাহারায় সতর্কতা
নেত্রীর আশঙ্কা, বিজেপি হার নিশ্চিত জেনে শেষ মুহূর্তে ইভিএম কারচুপি বা গণনায় ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই কর্মীদের প্রতি তাঁর কড়া বার্তা, শেষ রাউন্ডের গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ গণনাকেন্দ্র ছেড়ে যাবেন না, তাতে যদি রাত দুটোও বাজে তবুও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে এজেন্টদের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাইরের কারও দেওয়া খাবার বা জল খেতেও বারণ করা হয়েছে। শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হলে অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত ফিরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন নেত্রী।
লোডশেডিং ও ব্যাটারি চার্জ নিয়ে অভিষেকের ‘টিপস’
ইভিএম বদল রুখতে স্ট্রংরুম থেকে গণনাকেন্দ্রে মেশিন নিয়ে যাওয়ার সময় কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মমতা সতর্ক করে বলেন, গণনাকেন্দ্রে যদি ১০ সেকেন্ডের জন্যও লোডশেডিং হয়, তাহলে ওরা ৫০টা মেশিন পাল্টে দিতে পারে। ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা যাতে সঠিক তথ্য কম্পিউটারে নথিভুক্ত করেন, সেদিকেও তীক্ষ্ণ নজর রাখতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইভিএমের ব্যাটারি নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ টিপস দিয়েছেন। তিনি জানান, কোনও ইভিএমে যদি ৭০ শতাংশের বেশি ব্যাটারি চার্জ থাকে, তবে বুঝতে হবে মেশিনটি বদলানো হয়েছে। এমন ক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ভিভিপ্যাট (VVPAT) গণনার দাবি জানাতে হবে এজেন্টদের।
সন্দেহ হলেই পুনর্গণনা ও বিপুল জমায়েতের ডাক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও বুথে যদি ৩০০ বা ৫০০ ভোটের সামান্য ব্যবধান থাকে বা সন্দেহজনকভাবে বিজেপিকে জিতিয়ে দেওয়া হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্গণনার দাবি তুলতে হবে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে ছাত্র, যুব ও মহিলা সংগঠনের চার-পাঁচ হাজার কর্মীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক। কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও রকম বাধা দিলে তৎক্ষণাৎ শীর্ষ নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটের কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি নজরদারি চালানো হবে। জেলাগুলোতে খোলা হয়েছে বিশেষ ওয়ার রুম এবং রাজীব কুমারের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরস্কার ও শাস্তির হুঁশিয়ারি
বৈঠকের শেষে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে বড় ঘোষণা করেন নেত্রী। তিনি জানান, ভোটে যে সমস্ত কর্মীরা মার খেয়েও ময়দান ছাড়েননি, জয়ের পর তাঁদের বিশেষ ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর যারা অত্যাচার চালিয়েছে, ফলাফল ঘোষণার পর আইনানুগভাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।