কালীঘাটের ওসির বিতর্কিত আচরণে ক্ষুব্ধ নেত্রী, ভোট গণনার আগেই কড়া হুঁশিয়ারি

ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক আগে পুলিশি অতিসক্রিয়তা এবং বিতর্কিত আচরণ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাট থানার সদ্য সাসপেন্ড হওয়া ওসি গৌতম দাসের নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। নির্বাচনের সময় যে সকল পুলিশ আধিকারিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, তাঁদের কাউকেই সরকার গঠনের পর রেয়াত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।
বিতর্কের সূত্রপাত ও মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কালীঘাট থানার ওসির দায়িত্ব পাওয়ার পর গৌতম দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একটি ছবি পোস্ট করেন। তৃণমূলের দাবি, ওই ছবি অত্যন্ত আপত্তিকর এবং ভোটারদের মনে ত্রাস সৃষ্টির নামান্তর। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কালীঘাটের ওসি প্রচুর বেড়েছিল, আজ সে সাসপেন্ড হয়েছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নির্বাচনের সময় অন্যায়ভাবে যাঁদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে বা যাঁরা অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছেন, নতুন সরকার আসার পর তাঁদের প্রত্যেকের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
কমিশনের পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দ্রুত রিপোর্ট তলব করেন এবং লালবাজারের তরফে গৌতম দাসকে ওসির পদ থেকে সরিয়ে সাসপেন্ড করা হয়। বর্তমানে তাঁর জায়গায় উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০০৮ ব্যাচের এই অফিসারের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে লালবাজারের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। গণনার ঠিক আগে নেত্রীর এই ‘অ্যাকশন মোড’ রাজ্যের পুলিশ মহলে একপ্রকার ত্রাসের সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব ৪ মে পরবর্তী পরিস্থিতিতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।